• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

আত্রাইয়ে মানুষের কল্যানে কাজ করছে ‘পূর্ণিমা’


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০১৯, ৩:৪২ PM / ১৩৩
আত্রাইয়ে মানুষের কল্যানে কাজ করছে ‘পূর্ণিমা’

মোঃ রুহুল আমীন, আত্রাই প্রতিনিধি : নিরবে নিভৃতে যিনি মানুষের সেবা করেন তিনিই মহান পুরুষ। তেমনি একজন মানুষ এসএম হাসান সেন্টু। লেখা পড়া খুব বেশি না থাকলে নিজের উপলব্দি থেকে গড়ে তুলেছেন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। যার নাম পূর্ণিমা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা। নওগাঁর আত্রাইয়ে অনন্য এক আলো ছড়াচ্ছে পূর্ণিমা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা ।
উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে ২০০৭ সালে এক সভার মাধ্যমে প্রথম সংগঠন নামে যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি সমগ্র উপজেলায় পূর্ণিমা পল্লী উন্নয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। শুরুতে দরিদ্র অসহায় মানুষের সার্বিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দুযোর্গ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্ততি গ্রহণ ও এ জনসচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দাতাদের সহগোগিতায় ও মানুষের চাহিদা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধমে সেবা দান করা হয়ে থাকে। যেমনঃ শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, স্যানিটেশন, বৃক্ষরোপন, দেশিয় খেলাধুলা রক্ষা প্রকল্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, মাদক বিরোধি, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনসচেনতা মূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে পূর্নিমা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা।

আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে অসহায় মানুষের বিশেষ করে অসহায় কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার দায় মুক্তিতে যে অন্য ভুমিকার রেখেছেন তা নিশ্চয় প্রশংসার দাবি রাখে। প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেস্ব অর্থায়ারে শুরু হলেও বর্তমানে এলাকার বৃত্তশালী ও বেশ কয়েক জন প্রবাসী অর্থে সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসেেছ।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী গত ১৭-১৮ অর্থ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা হত দরিদ্রদের মাঝে ১৯৫টি স্যানিটেশন রিং স্লাব, ১০৫০টি ফলজ বৃক্ষ, ত্রিশ হাজার টাকার শিক্ষা উপকরণ, দশ হাজার টাকার শীত বস্ত্র, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্নবাসন প্রকল্পে ত্রিশ হাজার টাকা এবং ৫ জন সামর্থহীন পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সড়কে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

উপজেলার কয়ড়া গ্রামের সুবিধাভোগি আফজাল জানান, যেখানে এনজিও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় মানুষের রক্ত চুছে যাচ্ছে, সেখানে পুর্ণিমা এমন নিঃস্বার্থ মানব সেবা করেছে পূর্ণিমা। এটা সত্যিই প্রসংশনীয়। বিশেষ করে সেন্টু ভাই একজন সাধারণ মানুষ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে কজন মানুষ পারে। তিনি আরো বলেন গত বছর আমি বিনা টাকায় ১৫টি আমের চারা ও ৩টি স্যানিটারী রিন স্লাব পেয়ে আনন্দিত।

এব্যাপারে পূর্ণিমার সভাপতি এসএম হাসান জানান, আসলে বিবেকের তারনাবোধ থেকেই তিনি পূর্নিমা সৃষ্টি করেছি। অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোই সত্যিকার শান্তির কাজ। এলাকার বৃত্তবান মানুষের সাড়াও পেয়েছি। তবে সরকারে সহযোগিতা পেলে পূর্নিমাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সংস্থাটির সম্পর্কে আত্রাই উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এবাদুর রহমান বলেন, পূর্ণিমা সংস্থাটির কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, গরিব অসহায়দের পাশে সবসময় থাকার জন্য পূর্নিমা সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছে। আমার উপজেলা পরিষদ হতে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৩:৪৩পিএম/৯/৭/২০১৯ইং)