

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ রবিউলের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ‘মানবতার মা’ উপাধি পাওয়া নারী জনপ্রতিনিধি আয়শা আক্তার দিনা। রোববার(২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শহরের ডনচেম্বারস্থ আল-মক্কা ক্লিনিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড এর নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনার সার্বিক সহযোগিতায় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন শহীদ রবিউলের ছোট ভাই রফিকের স্ত্রী। করোনাকালীন দূর্যোগময় সময় থেকে শুরু করে এই নিয়ে ৯ম শিশুর জন্ম হলোেএই নারী জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায়। এ বিষয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত উল্লেখ করেন দিনা। তার ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহপাক মহান রাব্বুল আলামীনের দয়ায় আমার সার্বিক সহোযোগিতায় আল-মক্কা হাসপাতালে জন্ম নিলো একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান।দুপুর ১ টায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি আপার ফোন আসলো আমাকে ফোনে জানালো ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ রবিউলের ছোট ভাই এর ওয়াইফ এর ডেলিভারি ব্যাথা শুরু হয়েছে কিন্তু ডেলিভারির টাকার ব্যাবস্হা করতে না পেরে প্রীতি আপাকে ফোন দিয়েছে। আমি একথা শোনার সাথে সাথেই মনে হল শহীদ রবিউলের প্রতি কিছুটা ঋৃন শোধ করার সুযোগ এসেছে।সাথে সাথে তাদের আল-মক্কা হাসপাতালে আসার কথা বলে দেই এদিকে আমি ও প্রীতি আপা ছুটে যাই আল-মক্কা হাসপাতালে। রোগীর তখন প্রেসার অনেক হাই এই অবস্থায় সিজার করানো সম্ভব না এছাড়া এর আগেও রোগীর ২ টা বাচ্চা আছে এবং ২ টা বাচ্চাই সিজারে হয়েছে তাই এবারও সিজার করাতেই হবে।তাই দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিট পর্যন্ত বসে থেকে শহীদ রবিউলের মায়ের সাথে অনেকক্ষণ কথা বললাম জানতে চাইলাম তার পরিবারের খোজ খবর।শহীদ রবিউলের মা পরিবারের খোজ খবর জানতে চাওয়ায় আবেগে কেঁদে ফেললো।অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের।বাসায় গিয়ে কেও খোজ নেয়না তাদের।করোনায় লকডাউনের সময় প্রীতি আপা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ত্রান সামগ্রী নিয়ে তাদের দিয়ে আসতো।শুনে ভীষন কষ্ট লাগলো আমার।আসলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আওয়ামিলীগ বিএনপি উভয় দলেরই ছিলো তাই উভয় দলেরই উচিত এই পরিবারটির পাশে দাড়ানো।শহীদ রবিউলের মায়ের কথায় বুঝলাম প্রতিবছর রবিউলের মৃত্যু বার্ষিকিতে রাজনীতিবিদরা ফটোসেশান করে অনেক কথার ফুলঝুরি ছড়ায় কিন্তু এই পরিবার কিভাবে আছে তা কেও খবরও নেয়না।এমনকি ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া এই পরিবারটিকে চরকাশিপুর এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ যায়গা দেয় কিন্তু আজও তারা এই যায়গার দখলে যেতে পারেনাই প্রভাবশালীদের কারনে।বিএনপি ৩ বার ক্ষমতায় থাকলো আওয়ামিলীগ এই পর্যন্ত ৩ বার ক্ষমতায় থেকে এখন চতুর্থ ট্রাম চলছে কিন্তু উভয় দলেরই প্রচুর সহানুভূতি ও মায়া মমতা থাকার পরেও এই পরিবারটি কেনো এখনো তাদের যায়গার দখলে যেতে পারছে না সেই প্রশ্ন আমি আমার এই স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বাসীর কাছে ছুড়ে দিলাম আর সহোযোগিতা চাইলাম নারায়ণগঞ্জ এর সকল কলম যোদ্ধা তথা সাংবাদিক মহলের কাছে।অবশেষে বিশেষ বিশেষ কৃতজ্ঞতা সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি আপাকে এমন একটি পরিবারের পাশে দাড়ানোর জন্য আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য।আসলে ভালো কাজ করার সৌভাগ্য আল্লাহপাক সবাইকে দেয়না।আমাকে যেনো এভাবেই আল্লাহ পাক বারবার ভালো কাজ করার সৌভাগ্য দেন এইটাই আল্লাহ পাক এর দরবারে চাওয়া।আরেকটি বিষয় এই নিয়ে আমার সহযোগিতায় ৯ টি সন্তান জন্ম হলো তার মধ্যে ৮ টি পুত্র সন্তান ছিলো এই প্রথম কন্যা সন্তান হলো।মা ও শিশু দুজনেই সুস্হ আছে।সবাই দোয়া করবেন তাদের জন্য।আবার ও নারায়ণগঞ্জ এর কলম যোদ্ধা তথা সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ শহীদ রবিউলের পরিবারের জন্য একটু লিখুন তারা যেনো তাদের প্রাপ্য পাওনাটুকু পায়।’’
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১১:১৫পিএম/২০/৯/২০২০ইং)
আপনার মতামত লিখুন :