• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

জোড়া ফলার আঘাতে নাজেহাল দশা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯, ১২:১৪ PM / ৯৬
জোড়া ফলার আঘাতে নাজেহাল দশা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, দু’দিন আগে তাদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ঝাড়খণ্ডের ভোট প্রচার থেকে মোদি বলেছিলেন, ‘পোশাক দেখলেই বোঝা যাচ্ছে কারা আন্দোলন করছে!’ মঙ্গলবার যাদবপুর থেকে মিছিল শুরু হওয়ার আগে সেই পোশাক প্রসঙ্গ টেনেই নাম না করে মোদিকে তীব্র আক্রমণ শোনালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

বললেন, ‘পোশাক দেখলেই কে ভালো আর কে খারাপ বোঝা যায় না কি? যারা টুপি পরেন তারা সবাই খারাপ আর যারা ধুতি পরেন না তারা সবাই ভালো?”

এরপর মমতা আরও বলেন, ‘ওরা ধর্ম, পোশাক দিয়ে মানুষকে আলাদা করতে চাইছে। আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে। বাংলায় আমরা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করতে দেব না, দেব না, দেব না। দেশ জ্বলছে, বাজার জ্বলছে, আর ওরা পোশাক নিয়ে কথা বলছে।’

গতকাল প্রথম মিছিল করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিনের মিছিল শুরু হয় যাদবপুর থেকে। দুই অভিনেত্রী সংসদ সদস্য নুসরত জাহান এবং মিমি চক্রবর্তী ছিলেন একেবারে প্রথম সারিতে। উপস্থিত ছিলেন চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, সাবেক ফুটবলার মানস ভট্টাচার্যের মতো সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের ব্যক্তিত্বরাও।

সোমবারের মতো এদিনও উপস্থিত তৃণমূল কর্মীসমর্থকদের শপথবাক্য পাঠ করান নেত্রী। তারপর বলেন, “আমি একটা ব্যাজ করেছি। যাতে বাংলার ম্যাপের ছবি আছে। তাতে লেখা রয়েছে এনআরসি, ক্যাব মানছি না, মানব না। আপনারাও এইরকম ব্যাজ করুন। স্কুলে, কলেজে, সব জায়গায় এই রকম ব্যাজ করুন।”

গেরিলা রাজনীতি করবেন না – মোদি নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে প্রতিবাদ তো ছিলই। বাড়তি আরও যোগ হয়েছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের বেধড়ক মার।

জোড়া ফলার আঘাতে নাজেহাল দশা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের। ঘটনার নিন্দায় ছাত্রসমাজসহ সরব হয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও। ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও। প্যাঁচে পড়ে সোমবারই টুইট বার্তায় তিনি বলেছিলেন, সিএএ কোনো ভারতীয় মুসলিমের জীবনে প্রভাব ফেলবে না। তাতেও চিড়ে না ভেজায় এবার প্রকাশ্যে ছাত্রসমাজের প্রতি সকাতর বার্তা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার ঝাড়খন্ড বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরাহিতের জনসভায় বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘গেরিলা রাজনীতি বন্ধ করুন। সংবিধান আমাদের পবিত্র বই।

কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, আমাদের নীতি নিয়ে বিতর্ক করুন, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, আমরা আপনাদের কথা নিশ্চয়ই শুনব। কিন্তু কিছু দল, কয়েক জন শহুরে নকশালরা আপনাদের কাঁধে বন্দুক রেখে গুলি চালাচ্ছে।’

আন্দোলনকারীদের প্রায় শিক্ষকসুলভ পরামর্শ দিয়ে মোদি বলেছেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা যেন নিজেদের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করেন। ছাত্রজীবনের এই সময়কাল এবং নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী কাজ করেন।’

একইসঙ্গে এদিন সিএএ নিয়ে কংগ্রেস এবং তার শরিক দলগুলোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কংগ্রেসের যদি সাহস থাকে তাহলে তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করুক তারা পাকিস্তানের সব নাগরিককে নাগরিকত্ব দেবে এবং জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখে ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনবে।’
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:১৪এএম/১৮/১২/২০১৯ইং)