• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে তদন্তের নামে ভুঁড়িভোজ করলেন শিক্ষা কর্মকর্তারা


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৬, ২০১৯, ৬:২৮ PM / ৯৮
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে তদন্তের নামে ভুঁড়িভোজ করলেন শিক্ষা কর্মকর্তারা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় তদন্তের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বাসায় ভুড়িভোঁজ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কর্মকর্তাদের এমন আচরণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষকসমাজে।
জানাগেছে,উপজেলার দক্ষিণ রাধাবল্লভ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্লিপ গ্রান্ডের-৫০হাজার,রুটিন মেইনটেইন্যান্সের-৪০হাজার এবং প্রাক প্রাথমিকের-১০ হাজার টাকাসহ মোট বরাদ্দ দেয়া হয় এক লক্ষ টাকা। চলতি বছরের জুন মাসে বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করা হলেও ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি এবং কৌশল অবলম্বন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে। অনুসন্ধানে দেখাযায় একটি সাধারণ দেয়াল ঘড়ি ভুয়া বিল দেখিয়ে মুল্য দেখানো হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। এছাড়াও পুরাতন বুক স্লেফ এবং ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় দেখান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এই সংক্রান্ত দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার উক্ত বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান। এসময় তদন্তের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দাওয়াত গ্রহন করে ভুড়িভোজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের বাসায় ভুড়িভোজ করায় তা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। কর্মকর্তাদের এমন ভুড়িভোজের কারণে উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী শিক্ষকরা জানান,নিউজ হওয়ার পর রবিবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান স্যার আরো ৪টি নতুন দেয়াল ঘড়ি এনে স্কুলে লাগিয়েছেন। এছাড়াও তারা বলেন, বৃহস্পতিবার টিও, এটিও স্যারসহ আরো অনেকেই এসেছিল স্কুলে। পরে তারা সবাই প্রধান শিক্ষকের বাসায় দুপুরের খাবার খেয়েছেন। কর্তারা যদি অনিয়মকারীদের প্রচ্ছয় দেয় তাহলে দুর্নীতি দূর হবে না বরং বাড়বে। আমরা প্রতিবাদ করব কিভাবে কেননা টিও,এটিও,প্রধান শিক্ষকগণ সবাই এক প্রকার রসুনের কোয়া। তারা সহকারি শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে চায় না। ফলে শিক্ষার উন্নয়নে তেমন কার্যকর ভূমিকাও থাকেনা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন,স্যাররা এসেছিল স্কুলে তদন্ত করার জন্য। পরে আমার বাসায় নিয়ে চা-কফির দাওয়াত দিয়ে ছিলাম।
এই বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধের সভাপতি একএম সামিউল হক নান্টু বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কোন কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে পারেনা। এটা চরম অনুচিত। কেননা এতে করে দুর্নীতি করতে উৎসাহ দেয়া হয়। যে কর্মকর্তা এই কাজ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সালেহ্ সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা উক্ত স্কুলে গিয়েছিলাম দেখার জন্য তবে ভুড়িভোজের কথা তিনি এড়িয়ে বলেন তেমন কিছু না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন,উক্ত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তা দেখার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তবে ভুড়িভোজ বিষয়টি আমার জানা নেই বিষয়টি আমি ক্ষতিয়ে দেখবো।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/৬:২৯পিএম/৬/১২/২০১৯ইং)