• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

ফ্রি’তেই পাকিস্তান খেলতে গেলো শ্রীলঙ্কা!


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ৮:৫২ PM / ২৫৮
ফ্রি’তেই পাকিস্তান খেলতে গেলো শ্রীলঙ্কা!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : পাকিস্তানের সঙ্গে অফিসিয়াল ট্যুর শ্রীলঙ্কার। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্ল্যানের (এফটিপি) অংশ হিসেবেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল খেলতে গেলো পাকিস্তানে। নিরাপত্তার অজুহাতে যদিও বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছে না এই সফরে। তবুও, শ্রীলঙ্কার একটি দল অংশ নিচ্ছে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা দল পাকিস্তানে পৌঁছেও গেছে।

পাকিস্তানে পৌঁছানোর আগে লঙ্কান ক্রিকেট দল নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সন্ত্রাসী হামলার ভয় তুলে দিয়ে সফরটাই বাতিল করতে চেয়েছিল কোনো কোনো গোষ্ঠী। কিন্তু পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা দেয়ার পরই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল সেখানে খেলতে গেলো।

তবে এরই মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে নাকি প্রচুর অর্থ দিয়ে তবেই সফরে রাজি করিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কিন্তু এই বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পিসিবি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, সফরের জন্য শ্রীলঙ্কাকে কোনো অর্থই দেয়া হয়নি।

পাকিস্তানে বিদেশি ক্রিকেট দল কিংবা ক্রিকেটারদের আসতে রাজি করানোর জন্য এর আগে পিসিবি যে অধিক পরিমানে অর্থ ব্যায় করেছে সে তথ্য সঠিক। কারণ, পিএসএলের ফাইনাল কিংবা অন্য যে কোনো ম্যাচ খেলার জন্য বিদেশি ক্রিকেটারদের তাদের দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যায় করেছে পিসিবি।

শুধু পিএসএল নয়, জাতীয় দলগুলোর ক্ষেত্রে একই নীতি অবলম্বন করেছে তারা। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার তারা ব্যায় করেছে পাকিস্তান সম্পর্কে যেন বিদেশি দলগুলো এবং ক্রিকেটারদের ধারণা পরিবর্তন হয়ে যায়। সে কারণেই এবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের সফর নিয়ে এ প্রশ্নটা উঠে গিয়েছিল।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি এভাবে আর কোনো অর্থ দিতে রাজি নন কাউকে। তিনি মনে করেন, প্রচুর পরিমাণে অর্থ দিয়ে কোনো কিছুই অর্জন হয়নি। বরং, অর্থ দিয়ে হয়তো ‘স্বল্প সময়ে’ কিছু অর্জন করা যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের জন্য কিছু অর্জন করা সহজ হয় না।
এ কারণে পিসিবি চেয়ারম্যান ঘোষণা দিলেন, পাকিস্তানে সফর করতে আসা আর কোনো দল কিংবা ক্রিকেটারকে অতিরিক্ত অর্থ দেয়া হবে না। এর চেয়ে বরং, বিদেশী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দিকেই নজর দিচ্ছেন তিনি বেশি। তাতে করে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া যাবে।

২০০৯ সালে লাহোরে লঙ্কান ক্রিকেটারদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই বন্ধ হয়ে যায়। আরব আমিরাতকে নিজেদের হোম ভেন্যু বানিয়ে খেলতে হয়েছে পাকিস্তানকে। তবে ২০১৫ সালে প্রথম বিদেশী দল হিসেবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল সফর করে পাকিস্তানে। ওই সময় প্রতিজন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটারকে দেয়া হয়েছিল সাড়ে ১২ হাজার ডলার করে।

এছাড়া ২০১৭ সালে পিএসএলের ফাইনাল খেলতে যে সব বিদেশী ক্রিকেটার পাকিস্তানে গিয়েছিল, মাত্র এক ম্যাচের জন্য তাদেরকেও দেয়া হয়েছিল প্রচুর পরিমাণে অর্থ। এরপর আইসিসি বিশ্ব একাদশ পাকিস্তানে গিয়েছিল ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। সেখানে, প্রতিজন খেলোয়াড়কে ১ লাখ ডলার করে দেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেছিল পাকিস্তানে। সেবারও ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের প্রতিজনকে ২৫ হাজার ডলার করে দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলও এক ম্যাচ খেলার জন্য গিয়েছিল পাকিস্তানে। সেবারও তাদের প্রতি ক্রিকেটারকে অর্থ দেয়া হয়েছিল।

তবে এবার শ্রীলঙ্কার যে দলটি পাকিস্তান সফরে গেলো, তাদেরকে আলাদা করে কোনো অতিরিক্ত অর্থ দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এহসান মানি। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা আর জবাবদিহীতা হচ্ছে আমার কাছে সবার আগে। যারাই এখন থেকে পাকিস্তানে আসতে চাইবে, তাদেরকে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানাবো। কিন্তু যে অর্থের জন্য আসবে, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। পাকিস্তানের জন্যও তিনি আর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন না।’

সবার জন্য পাকিস্তান নিরাপদ জানিয়ে এহসান মানি বলেন, ‘সুতরাং, আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সবাইকে বোঝানো যে পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ। অর্থ দিয়ে হয়তো স্বল্প সময়ের জন্য কোনো সাফল্য অর্জন করা যাবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের জন্য আমরা চাই একটা নিখুঁত ফাউন্ডেশন। যেটার মধ্য দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটও এগিয়ে যাবে।’

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৮:৫৩পিএম/২৬/৯/২০১৯ইং)