• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

ইবি প্রশাসনের গৌরবোজ্জ্বল অগ্রগতির ৩ বছর


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২১, ২০১৯, ৯:০০ PM / ১০৯
ইবি প্রশাসনের গৌরবোজ্জ্বল অগ্রগতির ৩ বছর

সাব্বির আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ হতে প্রশাসনকে সংবর্ধনা বুধবার প্রশাসনভবনের তৃতীয়তলার সম্মেলন কক্ষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তিক জনপদে গড়ে উঠা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে পরিচালিত করবার রূপকার বর্তমান প্রশাসনের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ হতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী), প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টে নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২১ শে আগষ্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবধরণের সহযোগীতার জন্য তিনি বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রনালয় এবং ইউজিসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের সকল কৃতিত্বের ভাগীদার করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। তিনি ভবিষ্যতে সুন্দরভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও উন্নয়ণ কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সকল শ্রেণি-মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান তাঁর বক্তব্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টে নিহতদের প্রতি গভীর শোক জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বিগত তিন বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বহুমূখী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা বর্তমান প্রশাসনের সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমরা তিনজন মিলে সবসময় বিশ্বদ্যিালয়ের উন্নয়নের কথা ভাবি এবং আমাদের তিনজনের মধ্যে রয়েছে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টে নিহতদের প্রতি আন্তরিক শোক প্রকাশ করে বলেন, আপনারা আজ আমাদেরকে দলমত নির্বিশেষে যে সম্মান দেখালেন তাতে আমি আবেগাপ্লুত। তিন বছর দায়িত্ব পালনকালে আমরা তিনজন সবসময় যেকোন উন্নয়ন কাজে একমত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির কথা চিন্তা করেছি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সকলের সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক(ভারঃ) এ কে আজাদ, প্রধান প্রকৌশলী(ভারঃ) আলিমুজ্জামান খান টুটুল, হিসাব পরিচালক(ভারঃ) মোঃ ছিদ্দিক উল্যা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারঃ) এ এইচ এম আলী হাসান, প্রধান মেডিক্যাল অফিসার(ভারঃ) ডাঃ এস এম নজরুল ইসলাম, জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ আতাউল হক, উপ-পরিচালক শাহ আলম কচি, উপ-গ্রন্থাগারিক মোছাঃ শাহনাজ বেগম, উপ-রেজিস্ট্রার রুহুল আমীন বাবু, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ উকিল উদ্দিন এবং সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমান প্রমুখ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের ২১ আগষ্ট ১২তম উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী), প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান (দ্বিতীয় মেয়াদে) এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা’র নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এগিয়ে নিতে অক্লান্তভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁদের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কর্মের মাধ্যমে চরম ভাবমূর্তি সঙ্কটে নিপতিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া দৃশ্যমান। প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার বর্তমান প্রশাসনের অঙ্গীকার নিয়ত বাস্তব রূপ পাচ্ছে।

২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি ৪র্থ সমাবর্তন সফলভাবে আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত এ সমাবর্তনে প্রায় ১০ হাজার ডিগ্রিধারীসহ প্রায় ১৪ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে, যা দেশের সর্ববৃহৎ সমাবর্তন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কর্মকান্ড অভুতপূর্ব গতি লাভ করেছে। বিভাগগুলোতে বর্তমানে সেশনজট অনেকাংশে কমে এসেছে। একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতি সম্প্রতি অনুষদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৫টি থেকে ৮টি করা হয়েছে। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভেঙ্গে মানবিক অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ; ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভেঙ্গে বিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ এবং বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ করা হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে আটটি ও ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে একটিসহ নয়টি যুগোপযোগী বিভাগ খোলা হয়েছে এবং ২০২১ সাল নাগাদ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৯টি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন ছাত্রীসহ ৩৯ জন বিদেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আন্তর্জাতিক ৭টি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অগ্রগতির কাজকে ত্বরাণি¦ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সময় ৮টা-২টা’র পরিবর্তে এখন ৯টা-৪টা ৩০মিনিট করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩২তম সিন্ডিকেট সভায় টি.এস.সি.সি মিলনায়তনকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন’ নামকরণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ স্থাপনের নীতিমালা গ্রহণ করেন এবং এবছর অনুষ্ঠিত ২৪২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তানুসারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. শামসুজ্জামান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্ণার এবং একুশে কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। ৫ শত ৩৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকার মেগাপ্রকল্পের আওতায় খুব শ্রীঘ্রই ক্যাম্পাসে ৯টি দশতলা ভবন ও ১টি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গবেষণাগার নির্মাণ এবং ১৮টি ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন ২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে দেশরতœ শেখ হাসিনা হলের বি-ব্লক, শেখ রাসেল হলের এ-ব্লক, রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবন ও আভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ এবং মেডিক্যাল সেন্টার ও গেস্ট হাউজের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের জন্য নির্মিতব্য ৫তলা আবাসিক ভবনের ৩য় তলা পর্যন্ত, ৫০০ কেভি সাবস্টেশন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিতব্য ১০তলা আবাসিক ভবনের ৫তলা পর্যন্ত ১ম পর্যায়ের নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের উর্দ্ধমুখী ও আনুভূমিক সম্প্রসারণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। উদ্বোধন করা হয়েছে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ আলী মিয়া বিজ্ঞান ভবনের ৩য়-৫ম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজের। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বিভিন্ন রাস্তা মেরামত ও সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পানির ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছে এবং দৃষ্টিনন্দন লেক তৈরি করা হয়েেেছ। এছাড়াও পরিবহন সঙ্কট দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলে ৮টি এসি গাড়ি যুক্ত হয়েছে। অচিরেই আসবে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বড় ২টি হিনো বাস।

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, গবেষণার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ, সকল অনুষদ হতে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াদক্ষতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসনের সুদক্ষ পরিচালনায় দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৯:০০পিএম/২১/৮/২০১৯ইং)