

সাব্বির আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি : বসন্তকে বাঁচাতে হলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ মোকাবেলা করতে হবে। একুশ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ। এটা মোকাবেলা না করতে পারলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে না আনতে পারলে আমাদের ঋতুরাজ বসন্ত হারিয়ে যাবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব ১৪২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা বসন্ত উৎসব পালন করি কিন্তু উৎসব পালনের পাশাপাশি বসন্তের যে প্রকৃতি, এটি যাতে বিপন্ন না হয় এবং ক্রমাগত বিলীন হয়ে না যায় সে বিষয়ে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির এবং কিছু কর্তব্য কর্মের আবশ্যকতা রয়েছে। হাজার বছরের বাঙালি-ইতিহাসে আমাদের একটি গৌরবের বিষয় হলো, আমাদের দেশের মতো ঋতু বৈচিত্র পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই। আমাদের প্রতিটি ঋতুর রয়েছে নিজস্ব রূপ, রস, গন্ধ এবং রয়েছে আলাদা-আলাদা পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট। ছয় ঋতুর রূপ, রস এবং গন্ধ আমাদের পূর্বসূরীরা উপভোগ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে একুশ শতকের পৃথিবীতে আমাদের সন্তানেরা ঋতুর এই স্বাদ পায়না। প্রকৃতি যদি কাউকে মোহিত ও প্রাণীত করতে না পারে তাহলে সে কখনো বড় লেখক, সাহিত্যক হয়ে উঠতে পারে না। কংক্রিটের জঙ্গলে বসে হয়তোবা জীবনকে উপভোগ করা যায়, কিন্তু জীবনের অর্থ বোঝা সেটা ব্যর্থতার সামিল হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের বাংলা বিভাগ ২০০৭ সাল হতে প্রতি বছর নিয়মিত বসন্ত উৎসব উদযাপন করে চলেছে। এটা একদিন ইতিহাস হয়ে দাঁড়াবে। নিয়মিত এ আয়োজন করায় ড. রাসিদ আসকারী বাংলা বিভাগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বুধবার সকালে বাংলা বিভাগের আয়োজনে, ক্যাম্পাসস্থ বাংলা মঞ্চে, বসন্ত উৎসব জাকযমকপূর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ বাকী বিল্লাহ বিকুলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মুুর্শেদ রতন। বসন্ত উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ রবিউল হোসেন প্রমুখ। এর পূর্বে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা মঞ্চে শেষ হয়।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১০:৪৬পিএম/১৩/২/২০১৯ইং)
আপনার মতামত লিখুন :