• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারের বিচারের দাবি ১৩২ আইনপ্রণেতার


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০১৮, ৪:৩৭ PM / ১৩৭
মিয়ানমারের বিচারের দাবি ১৩২ আইনপ্রণেতার

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার যে নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে, সেজন্য দেশটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৩০ জন আইনপ্রণেতা।

২৪ আগস্ট শুক্রবার দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুর) ১৩২ জন বর্তমান সংসদ সদস্য, যাদের মধ্যে ২২ জন আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের (এপিএইচআর) সদস্য, যৌথভাবে এ সম্পর্কিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ওই বিবৃতিতে মিয়ানমারকে আইসিসির মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এপিএইচআরের চেয়ারপারসন ও মালয়েশিয়ান পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ অভিযান শুরুর এক বছর পার হয়ে গেছে। অথচ এ ঘটনার দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার কাছাকাছিও যেতে পারিনি আমরা। মিয়ানমার স্পষ্টত এ ঘটনার তদন্ত করতে ইচ্ছুক নয় এবং অক্ষম, তাই আমরা এমন একটি জায়গায় বিষয়টি তুলে ধরছি যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবশ্যই তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।’

চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, ‘আমি ১৩১ জন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যাতে মিয়ানমারকে দ্রুত আইসিসির মুখোমুখি করে। মিয়ানমারের যারাই এ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। তাদের মুক্তভাবে ও ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের অপরাধ সংগঠিত করতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’

আইনপ্রণেতারা ইন্দোনেশিয়াসহ আসিয়ানের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যাতে রোহিঙ্গারাসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে চাপ দেয়। ইন্দোনেশিয়া আগামী বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ পাবে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে ইতিহাসের নৃসংশতম সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযান শুরুর পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবশে করে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। যদিও মিয়ানমার বরাবরই হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেও দেখা গেছে। ব্যাপক চাপে পড়ে মিয়ানমার সরকার বিদেশি সাংবাদিক ও জাতিসংঘ কর্মকর্তাদেরকে রাখাইন রাজ্যে সীমিত পরিসরে প্রবেশের অনুমতি দেয়। সাংবাদিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সেখানে ব্যাপক ধংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখেন। সাংবাদিকদের সামনেই রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হয়।

২৫ আগস্ট এ অভিযানের এক বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘসহ বিশ্বের সব মানবাধিকার সংগঠনগুলো রাখাইন রাজ্যে নৃসংশ সেনা অভিযানের নিন্দা করে বারবার বিবৃতি দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে এসব সংগঠন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার বরাবরই বলে আসছে, তারা কোনো মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করেনি। বাধ্য হয়ে দেশটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু এ ধরনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কখনো আলোর মুখ না দেখার ইতিহাস মিয়ানমারের বেশ পুরাতন। আবার সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত বাহিনী সেনাবাহিনীরই মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত কতটা যথার্থভাবে করতে পারবে, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

রাখাইনের রোহিঙ্গা ছাড়াও দেশটির কাচিন ও শান প্রদেশে বহু যুদ্ধাপরাধ সংগঠনের অভিযোগ আছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনীর অভিযানে এসব রাজ্য থেকেও হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য এবং এপিএইচআরের বোর্ড সদস্য ইভা কুসুমা সুন্দারি বলেন, ‘মিয়ানমারের ভেতর এ বর্বরতার বিচার হবে, সে আশায় বসে থাকার সময় পেরিয়ে গেছে। হস্তক্ষেপ না করার নীতি থেকে আসিয়ানকে বের হয়ে আসতে হবে। এটি এখন মানবতার সংকট।’

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৪:৩৫পিএম/২৪/৮/২০১৮ইং)