

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী মারা গেছেন। দিল্লির এইমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল পাঁচটা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান বলে খবর দিয়েছে দেশটির জি নিউজ।
মৃত্যুকালে চিরকুমার অটলবিহারীর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
বাজপেয়ীর মৃত্যু সংবাদে গভীর শোকপ্রকাশ করে একটি টুইট করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। এইমস হাসপাতালে নয় সপ্তাহ ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ফুসফুস ও অন্ত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বাজপেয়ীর একটি কিডনি দীর্ঘদিন ধরেই বিকল ছিল।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজনীতির আদর্শ বরাবরই বাজপেয়ীর কাছে ছিল প্রথম প্রাধান্য। তার আমলেই ২০০২ সালে গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাজপেয়ী তাকে রাজনৈতিক আদর্শ পালনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ভারত যদি ধর্মনিরপেক্ষ না হয়, তাহলে ভারত ভারতই নয়— এমন মন্তব্য করেছিলেন প্রয়াত এই বিজেপি নেতা।
বাজপেয়ীর জন্ম ১৯২৪ সালে গোয়ালিয়রে। তার বাবা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী একজন কবি ছিলেন।
দীর্ঘ এবং ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের ফাঁকে অবসর খুঁজে নিয়ে অটলবিহারীও কাব্যচর্চা করতেন নিয়মিত। ছাত্রাবস্থায় গোয়ালিয়রেই আর্যসমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।
তারপরে যোগ দেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন পরবর্তী কালে। ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি সরকারে মন্ত্রী হন তিনি। কিন্তুম পরে সংঘপন্থী অন্য নেতাদের সঙ্গে বাজপেয়ীও জনতা পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে এসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গঠন করেন। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম সভাপতিও হন বাজপেয়ী।
তার ১৬ বছর পরে প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র হার হয়। পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে প্রধান বিরোধী দলনেতার পদ নিতে অস্বীকার করেন তিনি। ক্রমশ সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেও সরিয়ে নেন নিজেকে। এবার জীবন থেকেই বিদায় নিয়ে নিলেন বাজপেয়ী।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৭:৪২পিএম/১৬/৮২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :