• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জে স্নাতক পাশ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!


প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০১৮, ৯:২৭ PM / ৩৫৪
গোপালগঞ্জে স্নাতক পাশ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, গোপালগঞ্জ : বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করে বশেমুরবিপ্রবির সিএসই বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মো: আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে ¯œাতক শ্রেনীতে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তন করে অকৃতকার্যদের পাশ দেখিয়ে ফলাফল প্রকাশসহ লাখ লাখ টাকা অবৈধ ভাবে উপার্জনসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ সকল অবৈধ কাজ করে রাতারাতি তিনি হয়ে যান আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। পাশাপাশি একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন  তোলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষক ও সিইসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতক শ্রেনীতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন কমিটির সদস্য ও রেজাল্ট প্রোসেসিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো: আক্কাছ আলী। ওই সময় ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট সীট পরিবর্তন করে অকৃতকার্য ছাত্রদের কৃতকার্য দেখিয়ে ফল প্রকাশ করেন এবং এ সময় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ফলে অনেক মেধাবী ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া ওই শিক্ষাবর্ষে তিনি তার আপন ছোট ভাই মো: লিয়াকত মাতুব্বরকে সিএসই বিভাগে অনৈতিক ভাবে ভর্তি করান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য বশেমুরবিপ্রবি/র/নিয়োগ/২৬-২৯/৫৪৬(৫) স্মারকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে প্রভাষক পদে প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার ডিগ্রীধারী যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে বলে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়। ওই পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এরমধ্যে ৩ জন  পিএইচডি, ১২ জন এমএসসি ও ১ জন বিএসসি ডিগ্রীধারী প্রার্থী আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনকারিদের মধ্য  কেবল মো: আক্কাছ আলীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (সম্মান) বলে উল্লেখ করা হয়।
নিয়োগ আবেদনের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিএসই বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরিতে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে অন্যান্য সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা খ্যাতনামা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসিসহ পিএইচডি ডিগ্রী হলেও, মো: আক্কাছ আলীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি (স¤œান) ডিগ্রী। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে একজন ¯œাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থীকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের মত একটি গুরুত্বপূর্ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দানের অন্তরালে রহস্য কি এ প্রশ্ন এখন সবার।
অপরদিকে, প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মো: আক্কাছ আলী খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছাকাছি পৌছে যেতে সক্ষম হন। মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থি। এরপর তিনি আর থেমে থাকেননি। উপাচার্যের কান ভারী করে জেষ্ঠ একজন শিক্ষককে টপকে তিনি সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে নেন। এর পর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, খুবই সাধারন নি¤œ বিত্ত পরিবারের সন্তান মো: আক্কাছ আলী। এক বছর আগের তিনি মাস শেষ না হতেই সহকর্মীদের কাছ থেকে তাকে টাকা ঋণ করে সংসার চালাতে হতো। অথচ রাতা-রাতি কি ভাবে তিনি শহরের নীলের মাঠ এলাকায় জমি ক্রয় করে আলীশান বহুতল ভবন নির্মানের কাজে হাত দিলেন তিনি। তার টাকার উৎস কোথায় এ সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসসি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশের অনুরোধে বলেন, আমরা সিএসসি (সম্মান) এর একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অসম্মানিত বোধ করি যখন আমাদের সমমানের ডিগ্রীধারী একজন শিক্ষক আমাদেরকে পাঠ দান করেন। পাশাপাশি  নিজের ছোট ভাই মো: লিয়াকত মাতুব্বরকে মেধা তালিকায় প্রথম স্থানে আনতে সহকর্মী শিক্ষকদের প্রভাবিত করে বেশী নম্বর ও প্রশ্ন পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ করা হলে তাকে বহিস্কার করা হবে বলে বার বার অনুরোধ করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে বশেমুরবিপ্রবির সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যান মো: আক্কাস আলীর সাথে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি করেননি। তবে এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের বিষয়ে অভিযোগ সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া তার আয়ের উৎসের স্বপক্ষে কোন কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি তিনি।
বশেমুরবিপ্রবির সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যান মো: আক্কাস আলীর এ সকল বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন। তারা আশা করেন প্রধানমন্ত্রী তার ব্যাক্তিগত গোযেন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুর কমিশন দ্বারা সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৯:২৫পিএম/২২/৬/২০১৮ইং)