

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ফিলিপাইনে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে অন্তত ১৩ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক লোককে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, বুধবার রাজধানী ম্যানিলার পার্শ্ববর্তী বুলাকান ও ক্যাভিটি প্রদেশের বেশ কিছু স্থানে এসব অভিযান চালানো হয়।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুয়ের্তে ক্ষমতায় আসার ২০ মাসের যে মাদকবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেন, তাতে এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েক হাজার অজ্ঞাত অস্ত্রধারী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ সব ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে উল্লিখিত দুটি এলাকায়।
মানবাধিকার সংগঠন ও দুয়ের্তের বিরোধী পক্ষের দাবি, পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মাদক সেবনকারী ও ছোট-খাট ব্যবসায়ীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।
বুলাকানের পুলিশ বৃহস্পতিবার বলেছে, মাদক সংক্রান্ত অন্তত ৬০টি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই বুলাকানে গত বছরের আগস্ট মাসে একদিনে ৩২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া গত মাসে রাতভর এক অভিযানে সন্দেহভাজন ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।
বুলাকানের পুলিশ প্রধান রোমিও কারামাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজ্যে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তারই অংশ হিসেবে সর্বশেষ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়। কারণ তারা গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
কারামাত বলেন, ২৪ ঘণ্টার ওই অভিযানে শতাধিক লোককে আটক এবং ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫০ প্যাকেট সন্দেহভাজন মাদক জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, দুয়ের্তে সরকারের এই মাদকবিরোধী অভিযান এতটাই রক্তাক্ত হয়েছে যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত মাসে সংস্থাটির এক প্রসিকিউটর প্রেসিডেন্ট দুয়ের্তে ও তার সরকারের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করেছেন।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/২:২৬পিএম/২২/৩/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :