• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন : সু চির দল-সেনা-বৌদ্ধ ঐক্য


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭, ৯:১২ PM / ২০০
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন : সু চির দল-সেনা-বৌদ্ধ ঐক্য

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি তীব্র ঘৃণা এক করে দিয়েছে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির দল এনএলডি, সেনাবাহিনী এবং দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে। এই তিনটি বলয়ই রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি- এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতা নিয়ান উইন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে পছন্দ করি না। কিন্তু এই বিষয়ে আমরা একসঙ্গে আছি।’

এই এনএলডি নেতা সেনা শাসনের সময় তিন বছর জেল খেটেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা যায় না এবং এ কারণেই আমরা একতাবদ্ধ। এরা নিশ্চিতভাবে অবৈধ অভিবাসী। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ কথা বলে না।’
নিয়ান উইন নামে ৭৫ বছর বয়সী এনএলডি নেতা দলটির মিডিয়া টিমের সভাপতিত্ব করেন এবং দলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।

যেখানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর ‘জাতিগত নিধন’ চলছে, সেখানে দেশটির সবচেয়ে বড় দলের প্রভাবশালী নেতার বক্তব্য মনোযোগ আকৃষ্ট করার মতো।
রোহিঙ্গারা কয়েক প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে আসলেও তাদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি এমনকি মৌলিক অধিকারগুলোও দেওয়া হয়নি। তারা বঞ্চিত হয়ে আসছিল চলাফেরার স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে।
গত ২৫ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের উপর অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অভিযোগ রাখাইন রাজ্য থেকে তাদেরকে সমূলে উৎখাত করতে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। হত্যা, ধর্ষণ, বেপরোয়া গুলিবর্ষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিয়ানমারের সাধারণ বৌদ্ধরা সামরিক বাহিনী ও সু চির ভূমিকার প্রশংসা করছে। তারাও মনে করে, রোহিঙ্গারা বহিরাগত। সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মিয়ানমারের জন্য তারা বড় হুমকি।
রোহিঙ্গা বিতাড়নের জন্য সামরিক বাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা সমর্থন করছে বৌদ্ধ ভিক্ষু থেকে শুরু করে সাধারণ মিয়ানমার নাগরিকরা।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৯:১০পিএম/১৫/৯/২০১৭ইং)