

ঢাকারনিউজ২৪.কম:
গুগলের সুন্দর পিচাই ও সের্গেই ব্রিনের নাম সব সময় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। সেই প্রতিষ্ঠানেরই সাদা টুপি হ্যাকার (হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার) পারিসা তাবরিজ হয়তো খুব বেশি শিরোনামে আসেন না। কিন্তু তিনি যে ওয়েবসাইট দেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার (ব্রাউজার) গুগল ক্রোমের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করেন, তা হয়তো জানা নেই অনেকের। গুগল ক্রোমের নিরাপত্তার জন্য যে দল কাজ করে, সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী পারিসা তাবরিজ।
কাজে ব্যস্ত পারিসা তাবরিজ। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াসারা বিশ্বের তুখোড় ৩০ জন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজ করেন পারিসার অধীনে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্ম নেওয়া তাবরিজের বাবা চিকিৎসক, মা সেবিকা। বাবা, মা আর দুই ভাই নানা বিষয়ে দক্ষ হলেও কম্পিউটারের তেমন কিছুই জানতেন না। এমন পরিবারে বেড়ে ওঠা পারিসা ২০০৬ সালে গুগলে ইন্টার্নশিপ করেন। সেখানে যোগ দেন এর পরেই বছরেই, ২০০৭ সালে। এরপর থেকেই গুগলে প্রাতিষ্ঠানিক পদবি তথ্য নিরাপত্তা প্রকৌশলী (ইনফরমেশন সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার)। গুগল পরিবার থেকেই তাঁকে ভালোবেসে বলা হয় ‘সিকিউরিটি প্রিন্সেস’ (নিরাপত্তার রানি) ও ব্রাউজার বস।
গুগল ক্রোমকে নিরাপদ রাখার জন্যই হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাগগুলি খুঁজে বের করেন। এখন পর্যন্ত গুগল এ খাতে ব্যয় করেছে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ৩৪ বছর বয়সী পারিসার দলের সবাই সাদা টুপি হ্যাকার (হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার)। এর অর্থ হচ্ছে এরা কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কোনো হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত নন। এ দলের কাজ হচ্ছে গুগল ক্রোমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রতিদিন যে ব্রাউজার ব্যবহার করে কোটি কোটি মানুষ, সে ব্রাউজারে অনৈতিক কাজে যুক্ত হ্যাকারদের আক্রমণ প্রতিহত থেকে বাঁচাতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি করে থাকেন পারিসা ও তাঁর দল। ব্রাউজারে নিরাপত্তাজনিত কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেটির কারণ এবং সমাধানের বিষয়গুলোর দিকেও নজরে রাখেন তিনি।
কাজে ব্যস্ত পারিসা তাবরিজ। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াহ্যাকারদের আক্রমণের নানামুখী প্রচেষ্টা আগাম ভাবতে বা ধরতে পারার সক্ষমতার জন্যই গুগল ক্রোমের নিরাপত্তার এত বড় দায়িত্বও পেয়ে যান পারিসা তাবরিজ। আর কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিও পেয়ে গেছেন পারিসা। ২০১২ সালে বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের ৩০ বছরের নিচে প্রভাবশালী শীর্ষ ৩০ ব্যক্তির তালিকায় ছিল তাঁর নাম।
পারিসা তাবরিজ তাঁর ব্লগে লিখেছেন, ‘আমি নিরাপত্তার ব্যাপারগুলো কলেজে বন্ধুদের কাছ থেকে শেখা শুরু করেছি।’ তিনি ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘এখন হ্যাকিং করা কুৎসিত। যখন কোনো সেলিব্রেটির ব্যক্তিগত ছবি অনলাইনে প্রকাশ হয়, তখন তাঁরা খবরের শিরোনাম হচ্ছেন; যা করা হচ্ছে তাতে শুধু নারীদের অবমাননাই হচ্ছে, তা নয়—এটা অপরাধও। একজন হ্যাকার হিসেবে, আমি এমন কাজে খুব কষ্ট পাই; মনঃক্ষুণ্ন হয়।’
পারিসা তাবরেজ। ছবি: সংগৃহীতএকজন নারী হিসেবে গুগলে কাজ করা কিংবা নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি সহজ ছিল না পারিসার জন্য। এ ব্যাপারে পারিসা বলেন, ‘গুগলে যোগ দেওয়ার সময় আমার এক পুরুষ সহকর্মী বলেছিল, আমি নাকি নারী বলেই চাকরিটা পেয়েছি!’ সে সময়ে কথাটা শুনে খুবই খারাপ লাগলেও তবে বর্তমানে নিজের অবস্থানে এসে পারিসার অভিমত, নারীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে করে এমন করে পুরুষ কিংবা অন্য কেউ ভাবতে না পারে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এনএম ০৯.২০এএম/০২/৫/২০১৭ইং)
আপনার মতামত লিখুন :