• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

বিয়ে করে তালাক দিয়ে দেন মোহরানা আদায় করাই মর্জিনার পেশা


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০২২, ১১:০৩ PM / ২৮০
বিয়ে করে তালাক দিয়ে দেন মোহরানা আদায় করাই মর্জিনার পেশা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলার নসিবগঞ্জ নুহালী এলাকার মর্জিনা আক্তার মিম (৩২) পরপর দশটি বিয়ে করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। বিয়ে করার দুই মাস পরেই তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এটাই তার ব্যবসা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার মোজাম্মেল হকের প্রথম মেয়ে মর্জিনা আক্তার মিম একে একে ১০টি বিয়ে করেছেন। প্রথম বিয়ে করেন ২০১৭ সালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বাকডোকরা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন আলীর সাথে। তাকে ৫ মাস পরেই তালাক দিয়ে ৭ লাখ টাকা মোহরানা আদায় করেন।

পরে ২০১৮ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কহরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের পুত্র শাহদাত হোসেনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মর্জিনা। ২ মাস পরে তাকেও তালাক দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহর আদায় করেন। পরে ২০১৯ সালে রাণীশংকৈল উপজেলার নয়নপুর গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে জমিরুলকে বিয়ে করেন তিনি। সে বিয়েরও ইতি টানেন এক মাসের মাথায় এবং ৯ লক্ষ টাকা দেনমোহর আদায় করেন।

এরপর ২০১৯ সালে ওই এলাকার পাশের গ্রামের মখলেসুরের পুত্র আফতাবর রহমানকে চতুর্থ বিয়ে করেন মর্জিনা। ২৫ দিন পরে ১২ লক্ষ টাকা দেনমোহর নিয়ে তালাক দেন তিনি। পরে ২০২০ সালে দিনাজপুর বালুবাড়ি এলাকার আকতারুজ্জামান বাবুর সাথে বিয়ে করেন। এক মাস পরেই ৬ লক্ষ টাকা দেনমোহর নিয়ে তাকেও তালাক দেন। আবারো ২০২০ সালে দিনাজপুর রাণীগঞ্জ এলাকার আব্দুল কাদের এর সাথে বিয়ে করেন। দেড় মাস সংসার করে ৮ লক্ষ টাকা দেনমোহর নিয়ে তাকেও তালাক দেয়।

২০২০ সালের শেষের দিকে কুড়িগ্রামের মোকলেসুর রহমানকে বিয়ে করে ৪৫ দিন সংসার করে ১১ লক্ষ টাকা দেনমোহর নিয়ে তাকে তালাক দেয়। অপরদিকে, পীরগঞ্জ উপজেলার চাঁদগাঁও গ্রামের রজব আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম এর সাথে ২০২১ সালে ২৭ই নভেম্বর বিয়ে হয়। এই বিয়েতে ৮ লক্ষ ৯ হাজার টাকা দেনমোহর ধরা হয়। অবশেষে এই পাত্রের সাথেও তালাক করার জন্য মেয়েটি পাত্রের পরিবারকে চাপ দেওয়া শুরু করেছে। মেয়েটি তার বাপের বাড়িতে গিয়ে তার স্বামীর পরিবারের সকলকে মামলা দেওয়ার চাপ দিচ্ছেন। না হলে দেনমোহর পরিশোধ করে তালাক দিতে বলছেন।

মেয়েটির সবশেষ পাত্র রবিউল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মেয়েটির এতগুলো বিয়ে হয়েছে আমার জানা ছিল না। পারিবারিক ভাবেই বিবাহ হয়েছে। মেয়েকে যেদিন দেখতে গিয়েছিলাম সেদিনই জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। আর দেনমোহরও বেশি টাকা লেখা হয়। বিয়ের প্রথম থেকেই মেয়েটি সমস্যা করছিল। বেশিরভাগ সময় তার বাবার বাসায় থাকতো। ৩ মাস পরেই আমাকে কোন কারণ ছাড়াই তালাক দিবে জানায়। পরে আমি খবর নিয়ে তার আগে ১০টা বিয়ে হয়েছে সেটা জানতে পারি। এখন সে দেনমোহর এর টাকার জন্য আর তালাক এর জন্য আমাকে ও আমার পরিবারকে চাপ দিচ্ছে।

এ বিষয়ে মেয়ের বাবাসহ দুই চেয়ারম্যান নিয়ে পীরগঞ্জ থানায় বসা হলে মেয়ের বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের ১০টা বিয়ে তাতে তার কি সমস্যা। মেয়ের সাথে সংসার না করলে মোহরানার টাকা দিয়ে আমার মেয়েকে তালাক দেক।’

এ বিষয়ে মর্জিনা আক্তার মিম এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘কোন ছেলে আমার মন মত না। সেজন্য কারো সাথেই সংসার টিকে নাই আমার।’

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার ৯নং সেনগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নতুন চেয়ারম্যান হয়েছি। একটি মেয়ের এতগুলো বিয়ে আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পরে আমি মেয়ে বাবাকে ডেকেছিলাম। কিন্তু তার কথা বলার ধরণ ভালো না। বিষয়গুলো পরে দেখা হবে।

জেলার খবর বিভাগের আরো খবর

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে  পুলিশ সুপারের  মতবিনিময়     এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:  আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা পুলিশ।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা।  সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব সহ  বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,সুশীল সমাজ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ জেলা পুলিশের উদ্বোধন কর্মকর্তাবৃন্দ ।  সভায় জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ মণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা নিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।  মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং ও আনসার মোতায়েন থাকবে।  পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করুন, প্রবেশপথে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখুন এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করুন। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে সাথে সাথে ৯৯৯ বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।  জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করে। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করবে। এ ক্ষেত্রে পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।  তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকুন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করুন। পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।আমি আশা করছি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হবে ইনশাল্লাহ।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,সুশীল সমাজ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ জেলা পুলিশের উদ্বোধন কর্মকর্তাবৃন্দ । সভায় জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ মণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা নিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং ও আনসার মোতায়েন থাকবে। পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করুন, প্রবেশপথে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখুন এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করুন। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে সাথে সাথে ৯৯৯ বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করে। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করবে। এ ক্ষেত্রে পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকুন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করুন। পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।আমি আশা করছি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হবে ইনশাল্লাহ।

আরও খবর