• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জরুরি : ইউনিসেফ


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০১৮, ৩:০৭ PM / ৩৮৪
৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জরুরি : ইউনিসেফ

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : কক্সবাজার জেলায় বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জরুরি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।

২৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এ আবেদন জানায়।

ইউনিসেফ জানায়, এসব রোহিঙ্গা শিশু সঠিক শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার কারণে যাতে হতাশাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

ভয়াবহ সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিশাল জনস্রোত শুরুর এক বছর উপলক্ষে একটি প্রতিবেদনে ইউনিসেফ সতর্ক করে যে, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী শিশুদের ভবিষ্যত অনুজ্জ্বল। কারণ তাদের শিক্ষার সুযোগ খুবই কম এবং নিজেদের বাড়ি ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত।

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেডার বলেন, ‘যদি এখন আমরা তাদের শিক্ষায় বিনিয়োগ না করি, তবে রোহিঙ্গাদের শিশুদের এই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য এসব শিশুদের দক্ষতা প্রয়োজন। না হলে তারা যখন মিয়ানমার ফিরে যাবে, তখন তারা সমাজে কোনো অবদান রাখতে অক্ষম হবে।’

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, শরণার্থীদের মৌলিক সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পরিমাণ আন্তর্জাতিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিশাল সংখ্যক শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা ইউনিসেফ ও এর শিক্ষা অংশীদারদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার শিশুকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

অবশ্য এসব শিক্ষাকেন্দ্রে কোনো অনুমোদিত পাঠ্যক্রম ছিল না। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষগুলো খুবই জনাকীর্ণ ছিল এবং পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল না।

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন একটি নতুন শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা অক্ষরজ্ঞান, সংখ্যাজ্ঞান ও ভাষার পাশাপাশি জীবনযাপনের অপরিহার্য দক্ষতাগুলো অর্জন করতে পারবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সকল রোহিঙ্গা শিশু বিশেষ করে মেয়ে ও কিশোর বয়সীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও জীবনযাপনের দক্ষতা অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোকে বিনিয়োগ করা উচিত।

রাখাইন রাজ্যে যাতে সকল সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও প্রাথমিক-পরবর্তী শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়, সেজন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

রোহিঙ্গাদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ২০১৮ সালে ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ২৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার আবেদন করেছে। তবে এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ সহায়তা পাওয়া গেছে।(ইউএনবি)

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৩:০৫পিএম/২৩/৮/২০১৮ইং)