

ফজলে রাব্বি, বাগাতিপাড়া(নাটোর)প্রতিনিধি : ১৬ বছর ধরে তিনি প্রথমে প্রশাসক তারপর চেয়ারম্যান, অবশেষে মেয়র পদে আসীন নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার মেয়র, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন । সারাদেশে যখন পৌর নির্বাচনের উৎসব তখন মামলার কারণে ১৪ বছর ধরে নির্বাচন বন্ধ এই পৌরসভায়। এভাবে চলতে থাকায় উন্নয়ন বঞ্ছিত থাকছেন এখানকার নাগরিকরা।পৌর কর দিয়েও বাস করছেন ইউনিয়ন পরিষদের সুবিধায়।
৪ বর্গকিমি আয়তনের ১৯,৬৭৮ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ছোট্ট এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ২০০৪ সালের ২৬ জুলাই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান মোশাররফ হোসেন। ২০০৬ সালে প্রথম নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিবার্চিত হন। এরপর ২০০৮ সালে পদবী পরিবর্তন হয়ে মেয়র হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পৌরসভার চেয়ারে তিনি রয়েছেন একটানা প্রায় ১৬ বছর ধরে। ২০০৬ সালে নির্বাচনের পর ২০১১ সালে তার মেয়াদ শেষ হলেও মামলার (পৌরসভা বাতিল চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন তৎকালীন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত স্থানীয় এমপি। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে পৌরসভা না রাখার পক্ষে গেজেট প্রকাশিত হলে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ওই গেজেটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন)কারণে নির্বাচন না হওয়ায় মেয়র হিসেবে এখনও তিনিই দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়াদ শেষের কয়েকমাস আগে তিনি২০১০ সালে তার দলের এক নেতাকে দিয়ে এই মামলাটি করিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম দুর্নীতি এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ।
বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন শুধু নামে পৌরসভা। কোনো সুযোগ সুবিধা নাই। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় একদিকে সঠিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে না। অন্যদিকে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পৌরসভার উন্নয়নেও নেই কোন গতি। ফলে পৌরসভার উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও পৌর এলাকায় রাস্তা-ঘাট,সড়ক বাতি,পানি সরবরাহ, পয়ঃপ্রনালী নিষ্কাশনসহ কোন সুবিধা মিলছে না।
পৌরসভার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে মালঞ্চি বাজারের কোন উন্নতি হয়নি। উপরন্তু পশু বাজার অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কোন উন্নয়ন হয়নি। অথচ ২০০ টাকার ট্রেড লাইসেন্সের ফিস এখন এক হাজার ৫০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
বাগাতিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল বলেন, মেয়র নিয়মিত অফিসে আসেন না। মাসের ২৫ দিনই ঢাকায় থাকেন। মেয়র মোশাররফ নিজের লোকদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে তাদের দিয়ে মামলা করে নির্বাচন আয়োজনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছেন। ধরেই নিয়েছেন তিনি আজীবন চেয়ারম্যান থাকবেন।
পৌরসভার মেয়র মোশাররফ হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে বলেন, ২০০৮ সালে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির তৎকালীন সাংসদ আবু তালহা বাগাতিপাড়া পৌরসভা বাতিল চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার দেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে বাগাতিপাড়া পৌরসভা না রাখার পক্ষে গেজেট প্রকাশিত হলে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ওই গেজেটের বিরুদ্ধ মামলা দায়ের করেন। ২০১০ সালে হাইকোর্টে মামলাটি দাখিল করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না।
নাটোর জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ পৌরসভাটি আইনগতভাবে চলবে কি চলবে না, তার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। বাগাতিপাড়া পৌরসভার তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হয়েছে। বাগাতিপাড়া পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার উপযোগী এবং আইনকানুন ও বিধি মেনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আবেদন ঙাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত দিবেন বলে তিনি মনে করেন।
দ্রুতই অন্যান্য পৌরসভার মতো এই পৌরসভায় নির্বাচন দিয়ে অচলাবস্থার নিরসন চান পৌরবাসী।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১০:২২পিএম/২৩.১২.২০২০ইং)
আপনার মতামত লিখুন :