মহসীন আলম, নারায়ণগঞ্জ : হাঁসির খোরাকে পরিনত হয়েছে নবগঠিত না:গঞ্জ বিএনপি। কমিটি ঘোষনার পর থেকেই বিভিন্ন গনমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক’সহ নানা মহলে কমিটি দুটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের নিয়ে যেমন সমালোচনার ঝড় বইছে, তেমনি নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্লা দিয়ে হাঁসির প্রতিযোগিতাও চলছে। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশনের এক কাউন্সিলরের আগে অন্য এক কাউন্সিলরের সচীবের নাম থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সমানতালে চলছে সমালোচনা ও হাঁসির প্রতিযোগিতা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম ঘোষণার পরদিন মঙ্গলবার আংশিকভাবে ২৬ সদস্যের জেলা ও ২৩ সদস্যের মহানগর কমিটির অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মুলত এর পর থেকেই সমালোচনা ও হাঁসির প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
প্রথমত জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আবারও শিল্পপতি শাহ-আলমকে রাখা হয়েছে। যাকে দলের নেতাকর্মীরা ঘুমিয়ে থাকা নেতা বলে থাকেন। ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষনার পর থেকে বর্তমান কমিটি ঘোষনার আগ পর্যন্ত পুরোটা সময় মাঠের রাজনীতিতে তিনি ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন।
অপরদিকে নতুন উভয় কমিটিতে সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক শীর্ষ নেতাদের যেমনিভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, তেমনি উভয় কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে এমন কিছু নেতাদের বসানো হয়েছে, যা দেখে দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ এবং বিষ্মিত। কেননা পদ পাওয়া অনেকের মধ্যে সরকার দলীয় নেতাদের চিহ্নিত দালাল হিসেবে পরিচিত। যার মধ্যে অন্যতম হলেন জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এড.আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও বন্দর থানা বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। এ দু’জনের বিরুদ্ধে বর্তমান আওয়ামী সরকারের বিগত ও বর্তমান মেয়াদের পুরোটা সময় দালালীর অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এক অনুষ্ঠানে এই দুই নেতার সামনে সরকার দলীয় এক নেতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে আখ্যায়িত করলেও তারা কোন প্রতিবাদ না করা এবং অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ না করার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির ২৬ সদস্যের আংশিক কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে জান্নাতুল ফেরদৌস, মনিরুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে কতুবপুরের এমএ আকবর ও লুৎফর রহমান খোকার নাম দেখে আরও বেশী বিষ্মিত দলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, দলের জন্য কোন অবদানের ভিত্তিতে কিংবা কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের এমন গুরুত্বপূর্ন পদে বসানো হয়েছে। এদের না আছে বাহুবল, না আছে কর্মী বাহিনী। বরং দলের জন্য অবদান না রাখা এবং অযোগ্য এসব নেতাদের জেলা কমিটিতে ঠাই দিয়ে বিগত দিনে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এবং অবদান রাখা নেতাদের বিএনপির রাজনীতি বিমুখ করে তুলেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রাথমিক ২৩ সদস্যের কমিটিতে দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। তাদের একজন হলেন আজহারুল ইসলাম বুলবুল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদের সচীব। তাকে করা হয়েছে ১ নং যুগ্ম সম্পাদক। তার পরের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে।
এসব প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১:৩৫পিএম/১৬/২/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি