• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

সুচি’র সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের বৈঠক


প্রকাশের সময় : মে ১, ২০১৮, ১২:৫৭ PM / ২৯৬
সুচি’র সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক  মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সাং সু চির সঙ্গে বৈঠক করেছে সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা। সোমবার বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দলের ২৬ সদস্য মিয়ানমারে যান। এরপর রাতে রাজধানী নাইপেদোতে তাদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাজধানী নাইপেদোতে পৌঁছার পর সোমবার দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের শীর্ষ দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা।

তিনি আরও জানান, সু চি এবং সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাং ছাড়াও সরকার, আইনপ্রণেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা।

তবে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কি আলোচনা হয়েছে, তা এখনো জানানো হয়নি। খবর: রয়টার্স, সিনহুয়া ও চ্যানেল নিউজএশিয়া।

গতবছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান চালালে প্রাণ বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো সেনাবাহিনীর এই অভিযানে ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘গণহত্যা’ অভিযোগ আনে। তবে বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করছে মিয়ানমার।

ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। দু’দিনের সফরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মিয়ানমার যান।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা রাখাইনে সেনা অভিযানের সময়ে ওঠা অভিযোগগুলো গ্রহণযোগ্য তদন্ত করবেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিবেন।

বৈঠকে উপস্থিত কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চি বৈঠক হয়। এ সময় প্রায় এক দশক স্বৈরশাসকের অধীনে দেশ পরিচালিত হওয়ায় আইনের ব্যতয় তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তার সরকার যেসব জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাও অবহিত করেন সু চি।

তবে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হুতায় বৈঠকের আলোচনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অবশ্য বৈঠক শেষে সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং তান বলেছেন, বৈঠকে সু চি তার সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে বদ্ধপরিবর, তা শক্তভাবে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘সু চি সব সময় বলেন কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অপরাধীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তিনি (সু চি) নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের আরও বলেছেন- আইনের শাসনের কোনো লঙ্ঘন হলে আপনারা আমাদের জানাবেন। আমরা অবশ্যই সেটি রোধে কার্যকরি ব্যবস্থা নেব।’

এপ্রিলের শুরুতে তার সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে টেলিভিশন ভাষণে সু চি বলেছিলেন, মিয়ানমার রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির উন্নয়নে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন ইস্যুতে নিরব থাকায় বিশ্বব্যাপী কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হন সু চি। এরপর থেকে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি এটাই প্রথম বৈঠক করলেন।

দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর সু চির সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অবশ্য পরে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাং- এর সঙ্গে নাইপেদোতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

এদিকে, জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে রোহিঙ্গা নির্যাতনের রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করাবে মিয়ানমার সরকার।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলোতে ট্রমাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আবেগঘন সাক্ষাতের পরই নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা মিয়ানমার সফরে গেলেন।

বাংলাদেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিরা জানান, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কুয়েতি দূত মানসুর আল-কুতাবি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মানবিক সংকটে রয়েছেন। প্রত্যাবাসন তাদের মানবাধিকার। এটা স্পষ্ট, টার্গেট করেই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যাতে তারা পালাতে বাধ্য হন।’

এ সময় নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার দূত দিমিত্রি পোলনস্কি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পরিষদের কাছে আপাতত কোনো ‘যাদুর কাঠি’ নেই। শুরু থেকেই অবশ্য তার দেশ রাশিয়া মিয়ানমারকে সমর্থন করে আসছে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:৫৫পিএম/১/৫/২০১৮ইং)