ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : গৃহপরিচারিকাকে মারধর করে জেল খাটতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনকে। এবার ঘরে নয়, রাস্তাঘাটেও নিজের অসংযত আচরণের প্রমাণ রাখলেন দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ডানহাতি এই পেসার। রোববার(৯ সেপ্টেম্বর) দিনেদুপুরে এক সিএনজি চালককে পিটিয়েছেন শাহাদাত।
বিকালে রাজধানীর আসাদগেটের কাছে শাহাদাতের গাড়ির সঙ্গে একটি সিএনজির ধাক্কা লাগে। শাহাদাত নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। ধাক্কা লাগার পর গাড়ি থেকে নেমে আসেন শাহাদাত। নেমেই সিএনজি চালকের কলার চেপে ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে সিএনজি চালককে চর-থাপ্পর মারতে শুরু করেন শাহাদাত।
সিএনজি চালক ও পত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সিএনজি চালককে কোনো কথাই বলতে দেননি শাহাদাত। গাড়ি থেকে নেমেই মোহাম্মদ লিটন নামের সেই সিএনজি চালককে গালিগালাজ ও চর-থাপ্পর মারতে শুরু করেন তিনি। শক্ত করে চেপে ধরায় সিএনজি চালকের শার্টও ছিড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ভিড় বাড়তে থাকলে সেখান থেকে চলে যান বাংলাদেশ দলের এই ক্রিকেটার।
যদিও শাহাদাতের দাবি অন্যরকম। প্রিয়.কমকে তিনি বলেছেন, ‘আসাদগেটের আড়ংয়ের ওখানে দুই সিএনজি চালক পাল্লা দিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আমার গাড়িতে ধাক্কা মারে। আমার গাড়ির সামনের অংশ ভেঙে নিয়ে গেছে। এরপর আমি গাড়ি থামিয়ে নেমে আসি। পরে সিএনজি চালককে বলি, এটা কোনো কাজ করেছেন? আমার ক্ষতিপূরণ দেন। সে বলে “কিসের ক্ষতিপূরণ? গাড়ি তো আপনি লাগিয়েছেন।”
শাহাদাত আরও বলেন, ‘আমি তাকে সরি বলতে বলেছি। কোনো সরি বলেনি। উল্টো আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। আমাকে ধাক্কা দেওয়ার পরে আমি ধাক্কা দিয়েছি। ধাক্কা দিয়ে আমার হাত ফুলিয়ে ফেলেছে। সে আমাকে উল্টো পিটিয়েছে। আমার গাড়ি তো ভেঙেছেই, মেরে আমার হাতও ফুলিয়ে দিয়েছে।’ তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে শাহাদাতের কথার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১১ বছরের এক গৃহকর্মীকে খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা ও মারধরের পর শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার পর বেশ কিছুদিন পলাতক থাকেন শাহাদাত ও তার স্ত্রী। পরে শাহাদাত আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে তিন মাসের কারদণ্ড দেন। শাস্তি মওকুফের আবেদন করেও লাভ হয়নি। তিন মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১২:৪৭এএম/১০/৯/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি