• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ ইঙ্গিত ভারতীয় সেনাপ্রধানের


প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০১৭, ১০:৩৩ AM / ১৯৭
‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ ইঙ্গিত ভারতীয় সেনাপ্রধানের

ঢাকারনিউজ২৪.কম:

দুই জওয়ানের মুণ্ডু ছেদের জবাবে ভারত কি কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে আবার একটা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হানতে চলেছে? ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত গতকাল বৃহস্পতিবার এমনই এক ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা আগেভাগে জানাই না। কাজ করার পর কী করলাম তা বিস্তারিতভাবে জানাই।’ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় এক পুলিশ চৌকিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পর বেশ কয়েকটি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্য দিলেন সেনাপ্রধান রাওয়াত।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জম্মু-কাশ্মীরের উরি সেক্টরে সন্ত্রাসী হামলার পরপরই ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তান-অধিকৃত ভূখণ্ডে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। ভারতের পক্ষে তখন বলা হয়, ওই বিশেষ সেনা অভিযানে একাধিক জঙ্গি শিবির ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নিহত হয় বহু জঙ্গি। যদিও পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী সেই দাবি ভ্রান্ত বলে দাবি করেছিল। জেনারেল রাওয়াতের গতকালের কথায় সে রকমই একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

ভারতের এই ক্ষোভের কারণ সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা। দিন কয়েক আগে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণরেখার কৃষ্ণ ঘাঁটি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনারা দুই ভারতীয় জওয়ানকে হত্যা করার পর তাদের মুণ্ডু ছেদ করে বলে ভারত অভিযোগ করেছে। গত বুধবার পাকিস্তানের হাইকমিশনার আবদুল বাসিতকে ডেকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর এই ‘ঘৃণ্যতম’ কাজের প্রমাণ তুলে দিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাকিস্তান প্রতিপক্ষের সেনার মৃতদেহ অবমাননা করার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে ভারতজুড়ে দাবি উঠেছে এর যোগ্য জবাব দেওয়ার। দৃশ্যত সেই দাবির মুখেই সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য।

বুধবার ভারতের উপসেনাপ্রধান শরৎ চাঁদ বলেছিলেন, অপরাধীদের এর ফল ভোগ করতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ‘কী করব তা আমরা বলব না। বরং আমরা আমাদের কাজের দিকেই নজর দেব। সেই কাজের সময় ও স্থান আমরা আমাদের পছন্দমতো ঠিক করব।’

এই বিতর্ক ও হুমকির মুখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও বুধবার জানিয়ে দেয়, ভারত তেমন কিছু করলে তারাও উপযুক্ত জবাব দেবে।

সীমান্তপারের এই সন্ত্রাসের পাশাপাশি কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব অব্যাহত। সোপিয়ান জেলায় বুধবার রাতে জঙ্গিরা হানা দেয় এক পুলিশ চৌকিতে। একে-৪৭সহ কয়েকটি রাইফেল হাতিয়ে তারা চম্পট দেয়। এর দুই ঘণ্টার মধ্যে পুলওয়ামায় দুটি ব্যাংক লুট হয়। পুলিশের সন্দেহ, ওই কাজগুলো লস্কর-এ-তাইয়েবার। টাকার টানাটানি চলছে বলেই ক্যাশ ভ্যান ও ব্যাংক লুটের সিদ্ধান্ত। এরপরই শুরু হয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর ব্যাপক অভিযান। কয়েকজন সন্ত্রাসীকে দেখা গেছে, এমন খবরে অন্তত ১২টি গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়েছে। চলছে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি।

 

  (ঢাকারনিউজ২৪.কম/এনএম ১০.৩১এএম/০৫/৫/২০১৭ইং)