ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে নিজেদের প্রথম দেখাতে অনায়াসেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালও নিশ্চিত হয়ে যায় তাতে। কিন্তু মঙ্গলবার আগে ব্যাট করে মাত্র ২১৬ রানের পুঁজি গড়ার পর সামান্য শঙ্কার মেঘ জমা বাঁধতে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে। কিন্তু তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে টাইগারদের ৯ উইকেটে গড়া ২১৬ রানের স্কোরটাই জিম্বাবুয়ের জন্য এদিন পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়ালো। ব্যাট হাতে ফিফটির পর বল হাতে এদিনও ৩ উইকেট নিলেন আগের দুই খেলার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ সাকিব। ২টি করে উইকেট নিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, সানজামুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাতে ৩৬.৩ ওভারে ১২৫ রানেই গুঁড়িয়ে গেল জিম্বাবুয়ের ইনিংস। লো স্কোরিং ম্যাচেও বাংলাদেশের ৯১ রানের জয়টাকে দাপুটে না বলে উপায় আছে কি?
২১৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে বোলিংটা যেমন হওয়া চাই তেমনই হলো। দুই দুই জন বোলার জাগালেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। প্রথমে সাকিব আল হাসান, পরে সানজামুল ইসলাম। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সাকিবকে দিয়ে বোলিং শুরু করালেন। অন্য প্রান্তে নিজে। মোস্তাফিজুর রহমান বা রুবেল হোসেনের মতো স্ট্রাইক বোলারদের হাত ঘোরানোর পালা এলো বেশ পরের দিকে। সেখানে মোস্তাফিজ নিজের বোলিং শুরু করলেন কিনা টানা ২৩ বল ডট দিয়ে। শট নির্বাচনে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের ফ্রন্ট ফুট-ব্যাক ফুটের সিদ্ধান্ত নিতেও নিশ্চয়ই ইনিংস জুড়ে বুক কাঁপানো অবস্থা তখন।
একমাত্র সিকান্দার রাজাই যা ভয়-ডরহীন ব্যাটিং করতে চাইলেন। কিন্তু টাইগার বোলাররা তা হতে দিলে তো? মোস্তাফিজুর রহমানের বলে প্লেড অন হয়ে ফিরতে হলো তাকে ৩৯ রান করে। জিম্বাবুয়ের অস্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন রাজা। এরপর তেন্দাই চাতারাকে ফিরিয়ে সাকিব নিজের ৩ উইকেট পূরণ করেন। ১০ রান করা জার্ভিসকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে ১৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে দেন মাশরাফি। ইদানিং নেতৃত্বগুণ বা মাঠের বাইরের অন্য অনেক কিছুতেই যার বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয় না খুব একটা, সেই মাশরাফি এদিনও প্রমাণ করলেন কেন এখনো দেশের সেরা পেসারের কাতারে তার নামটা ওপরে। ১১ রান করা ক্রেইগ আরভিনকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে সেটি আরো বেশি করে প্রমাণ করেন মাশরাফি। আরভিন চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন। মাঝে পর পর দুই বলে সলোমন মিরে (৭) ও ব্রেন্ডন টেলরকে (০) শিকার করেছেন সাকিব। সপ্তম ওভারের শেষ দুই বলে উইকেট পেয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাটা অবশ্য বাস্তবে পরিণত করতে পরেননি সাকিব।
এরপর সানজামুলও পর পর দুই উইকেট নিয়ে একই কাজ করলেন। শুরু থেকেই উইকেট পাওয়ার আকুলতা ছিল সানজামুলের শরীরি ভাষায়।বেশ খানিকটা অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। চতুর্থ আর পঞ্চম উইকেটের মাঝে জিম্বাবুয়ে খেলেছে ৭৯ বল। সিকান্দার রাজা ও পিটার মুরের ৩৪ রানের জুটি হয়েছে তাতে। মুরকে (১৪) ফিরিয়ে সামজামুল সেটি ভাঙতেই জিম্বাবুয়ের সব সম্ভাবনা প্রায় শেষ সেখানেই। ওয়ালারকে (০) ফিরিয়ে সানজামুল হ্যাটট্রিকের আশা জাগালেন। এরপর ২৩ রান করা গ্রায়েম ক্রেমার শিকার হন রুবেল হোসেনের।
এর আগে বাংলাদেশের আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিতকা ধরে রেখেই দারুণ ব্যাট করতে থাকে। যা আভাস দিচ্ছিল বড় রানের। এনামুল হক বিজয় (১) দলের ৬ রানেই ফিরেন যদিও। কিন্তু তামিম ইকবাল ও সাকিব কঠিন উইকেটেই গড়লেন ১০৬ রানের জুটি। রান তোলার গতি কিছুটা স্লথ হলেও সেখান থেকে আড়াইশ পেরিয়ে তিনশর কথা ভাবা যাচ্ছিল। কিন্ত গ্রায়েম ক্রেমার আর কাইল জার্ভিসের বোলিংয়ে এলামেলো হয়ে গেল সব।
সাকিব ৫১ রান করে আউট রাজার বলে। এরপর মুশফিক (১৮) ও মাহমুদউল্লাহ (২) শিকার হন ক্রেমারের। ৭৬ রান করা তামিমকেও শিকার বানান ক্রেমার। তাতে বিষম চাপ বাড়ে টাইগারদের উপর। যা থেকে মুক্তি দিতে পরেননি সাব্বির রহমান (৬), নাসির হোসন (২) বা মাশরাফি (০)।
তবে লোয়ার অর্ডারে সানজামুল ও মোস্তাফিজুর রহমান রেখেছে দারুণ ভূমিকা। নবম উইকেটে মোস্তাফিজ-সানজামুল গড়েন ২৬ রানে জুটি। এরপর রুবেল হোসেনকে নিয়ে মোস্তাফিজুর গড়েন অপরাজিত ২০ রান জুটি। সানজামুল ১৯ রান করে আউট হলেও মোস্তাফিজ ১৮ ও ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন রুবেল। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেটে নেন ক্রেমার। ৩ উইকেট নেয়ছেন জার্ভিস। একটি করে উইকেট পেয়েছেন চাতারা ও রাজা।
কিন্তু ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা তাহলে উঠবে কার হাতে? সাকিব আল হাসান? আবার? ব্যাট হাতে ফিফটির পর বল হাতে তিন উইকেট নিয়েছেন। টানা তিন ম্যাচে ম্যাচ সেরা তো তিনি পেতেই পারেন। কিন্তু আগের দুই ম্যাচে মতো তামিম ইকবালও যে জোর দাবি জানাচ্ছিলেন। ৭৬ রানের ইনিংসে যিনি বিশ্ব রেকর্ডসহ ছুঁয়েছেন দুই দুটি মাইলফলক। একমাঠে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েছেন তিনি কিংবদন্তি সনাথ জয়সুরিয়াকে পেছনে ফেলে। ওয়ানডে ক্রিকেটে পেরিয়েছেন ছয় হাজার রানের মাইলফলক। এমন দিনে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উঠেছে তামিমের হাতেই। ১২তম বারের মতো ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হলেন তামিম। ১১বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা মাশরাফিকে ছাড়িয়ে গেলেন এদিন। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ১৮বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন অবশ্য সাকিবই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২১৬/৯ (তামিম ৭৬, এনামুল ১, সাকিব ৫১, মুশফিক ১৮, মাহমুদউল্লাহ ২, সাব্বির ৬, নাসির ২, মাশরাফি ০, সানজামুল ১৯, মোস্তাফিজ ১৮*, রুবেল ৮*; জার্ভিস ৩/৪২, চাতারা ১/৩৩, মাজারাবানি ০/৩৬, রাজা ১/৩৯, ক্রেমার ৪/৩২, ওয়ালার ০/৩২)।
জিম্বাবুয়ে : ৩৬.৩ ওভারে ১২৫/১০ (মাসাকাদজা ৫, মিরে ৭, এরভিন ১১, টেলর ০, রাজা ৩৯, মুর ১৪, ওয়ালার ০, ক্রেমার ২৩, জার্ভিস ১০, চাতার ৮, মুজারাবানি ০*; সাকিব ৩/২৪, মাশরাফি ২/২৯, সানজামুল ২/২৮, মোস্তাফিজ ২/১৬, রুবেল ১/১৮)।
ফল : বাংলাদেশ ৯১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ : তামিম ইকবাল।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:৫০পিএম/২৩/১/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি