ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ারে অনেক অনেকবারই অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে পুড়িয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ সুপারস্টার প্রিয় এই প্রতিপক্ষকে পোড়ালেন আরও একবার। এবার পোড়ালেন জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে, দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে।
হ্যাঁ, গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগে হ্যাটট্রিক করেছেন রোনালদো। তার কাঁধে চেপেই নিজেদের ঘরের মাঠে অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে জুভেন্টাস লিখেছে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প। জিতেছে ৩-০ গোলে। ফলে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারার পরও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসে। নিজেদের ঘরের মাঠের প্রথম লেগে ২-০ গোলে জেতার পরও অ্যাতলিতিকোকে নিতে হলো বিদায়।
প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ২-০ গোলে হেরে আসায় জুভেন্টাসের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সমীকরণটাই ছিল এমন, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে নিজেদের মাঠের ফিরতি লেগটাতে অন্তত ৩-০ গোলে জিততে হবে। অবিশ্বাস্যভাবে রোনালদো একাই সেই সমীকরণটা মিলিয়ে দিলেন! হ্যাটট্রিক করেই কঠিন পরীক্ষায় পাশ করালেন জুভেন্টাসকে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে বলা হয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর টুর্নামেন্ট। কিন্তু এবার সেই দাবি অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছিল। রিয়ালের জার্সি পরে কাড়ি কাড়ি গোল করা রোনালদো যে জুভেন্টাসের হয়ে টুর্নামেন্টে গোলই পাচ্ছিলেন না। গ্রুপপর্বের ৬ ম্যাচে মাত্র ১ গোল। শেষ ষোল’র প্রথম লেগেও গোলহীন। মানে জুভেন্টাসের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম ৭ ম্যাচে ১ গোল। এই পরিসংখ্যান কিছুতেই রোনালদোর সঙ্গে যায় না।
সেই নিষ্প্রভ রোনালদোই কাল রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা দিলেন অগ্নিমূর্তি রূপে। তার সেই আগুনে পুড়ে ছাই হলো অ্যাতলেতিকো। এ জন্য অবশ্য অ্যাতলেতিকো নিজেরাই দায়ী। কারণ, রোনালদোকে তাঁতিয়ে দিয়েছিল তারাই।
অ্যাতলেতিকোর মাঠে গিয়ে প্রথম লেগে নিষ্প্রভ ছিলেন রোনালদো। নিজে গোল না পাওয়া, দলের পরাজয়-দুইয়ে মিলে এমনিতেই সেই রাতটা ছিল রোনালদোর জন্য চরম হতাশার। অ্যাতলেতিকোর কোচ-সমর্থকরা আবার পর্তুগিজ তারকার সেই কাটা গায়ে নুন ছিটিয়েছিল দুয়ো, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আর বিতর্কিত উদযাপনের মাধ্যমে।
অ্যাতলেতিকোর কোচ-সমর্থকদের উদযাপন দেখে মনে হচ্ছিল, তারা বুঝি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেই গেছে। তারা হয়তো ক্ষণিকের জন্য ভুলেই গিয়েছিল একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নিজের দিনে কি করতে পারেন! অ্যাতলেদিকো ভুললেও রোনালদো ভুলেনি। বরং অ্যাতলেতিকোর সমর্থকদের দুয়ো এবং কোচ দিয়েগো সিমিওনের বিতর্কিত উদযাপনের জবাব দিতে মুখিয়ে ছিলেন।
কাল অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে সেসব ক্ষোভই মিটিয়েছেন অবিশ্বাস্যভাবে। প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার মনোকামনায় ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ অ্যাতলেতিকোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জুভেন্টাস। রোনালদোর ম্যাজিকে ফলও প্রায় দ্রুতই। ম্যাচের ২৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন পর্তুগিজ তারকা।
এরপর ৪৯ মিনিটে রোনালদোর আরও একটি হেড খুঁজে নেয় অ্যাতলেতিকোর জাল। দুই লেগ মিলিয়ে দ্বৈরথ তখন টাই, রোনালদোর জুভেন্টাস ২ : ২ অ্যাতলেতিকো। দ্বৈরথের মীমাংসা টানতে আরও একটি গোল করতে হবে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও দ্বৈরথ জেতা সেই গোলটা পাচ্ছিল জুভেন্টাস। পাচ্ছিলেন না রোনালদোও। অবশেষে বীর রোনালদোকে বিজয়ী করতেই যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে ভাগ্যদেবী। ৮৬ মিনিটে জুভেন্টাস পেয়েম যায় পেনাল্টি। রোনালদো কোনো ভুল করেননি।
পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে যুদ্ধে জেতানোর পাশাপাশি রোনালদো পূর্ণ করেছেন হ্যাটট্রিক। ছুঁয়ে ফেলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ ৮ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। মানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুজনেরই এখন হ্যাটট্রিক সমান ৮টি করে।
এই হ্যাটট্রিকসহ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোনালদোর গোল সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১২৪-এ। এখানে অবশ্য মেসি অনেক পিছিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনি গোল করেছেন ১০৬টি। মজার বিষয় হলো, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের ইতিহাসেও রোনালদোর সমান গোল করতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাদ্রিদের এই ক্লাবটি মোট গোল করেছে ১১৮টি!
সেই অ্যাতলেতিকোর সমর্থকরা দুয়ো দিয়েছিল বলেই হয়তো রোনালদোর আঁতে ঘা-টা লেগেছিল বেশি। কাল তার সেই রাগ-ক্ষোভের আগুনেই পুড়ে ছাই হলো অ্যাতলেতিকো।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:৪০এএম/১৩/৩/২০১৯ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি