• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

রিয়ালের ‘হার অব দ্য সেঞ্চুরি’


প্রকাশের সময় : মার্চ ৬, ২০১৯, ১১:১৫ AM / ৯২
রিয়ালের ‘হার অব দ্য সেঞ্চুরি’

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : সব শেষ রিয়ালের! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে টানা দুই এল ক্লাসিকোতে হেরে কোপা ডেল রে ও লিগ শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। বাকি ছিল শুধু উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। যে টুর্নামেন্টে সর্বশেষ তিনবারই চ্যাম্পিয়ন তারা। কাঁটায় কাঁটায় ১০০০ দিন ধরে মাথায় পরেছিল ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের রাজ মুকুট। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘রাজা’ রিয়ালের মাথা থেকে সেই ‘রাজ-মুকুট’ খুলে ফেলল পুঁচকে আয়াক্স। রিয়ালের মাঠে এসেই রিয়ালকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ডাচ ক্লাবটি।

প্রথম লেগে ২-১ গোলে হারের পরও তাই দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে পুঁচকে আয়াক্স। আর গত ১০০০ দিন ধরে রাজ মুকুট পরে থাকা রিয়ালকে বিদায় নিতে হলে শেষ ষোল থেকেই।

প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জিতে আসার পরও নিজেদের ঘরের মাঠে ৪-১ গোলের বড় হার, রিয়ালের ইতিহাসেই এমন লজ্জা এই প্রথম। স্প্যানিশ ফুটবলবোদ্ধারা তাই কালকের রিয়ালের এই হারকে ‘হার অব দ্য’ সেঞ্চুরি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

দৈত্য রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পুঁচকে আয়াক্সের পার্থক্যটা একটি তথ্যেই স্পষ্ট। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড ১৩ বারের শিরোপা জয় রিয়াল সর্বশেষ ৫ মৌসুমের মধ্যে ৪ বারই শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে আয়াক্স সর্বশেষ কোয়ার্টর ফাইনালে উঠেছিল সেই ১৯৯৫ সালে। মজার বিষয় হলো, সেবারও গ্রুপ পর্বে এই রিয়ালকেই হারিয়েছিল তারা। সেবার অবশ্য সেমিফাইনালেও উঠেছিল আয়াক্স। তবে সেমিতে হেরে যায় জুভেন্টাসের কাছে।

শুধু তাই নয়, সেবার প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দলের সর্বশেষ ৭ সাক্ষাতেই জয়ী রিয়াল। সেই রিয়ালকে তাদের মাঠে এসেই নাস্তানুবাদ করলো আয়াক্স! রিয়ালের জন্য এটা শুধু হার নয়। এই হার রাজ সিংহাসন থেকে রিয়ালকে নামিয়ে দিয়েছে মাটিতে। গুঁড়িয়ে দিয়েছে সব স্বপ্ন। যে হারের যন্ত্রণা-বেদনা, হতাশায় গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে বার্নাব্যু।

এটা নিজ দূর্গ বার্নাব্যুতে দৈত্য রিয়ালের টানা চতুর্থ হার। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বার্নাব্যুতে রাজা রিয়ালকে প্রথম ধাক্কাটা দেয় পুঁচকে জিরোনা। হারিয়ে দেয় ২-১ গোলে। এরপর কোপা ডেল ও লিগ মিলিয়ে বার্সেলোনার কাছে টানা দুই এল ক্লাসিকোতে হার।

এই তিন হারে দু-দুটি শিরোপার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় রিয়ালের। তারপরও রিয়াল সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কারণ চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে বলা হয় রিয়ালের টুর্নামেন্ট। ইউরোপিয়ান ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের এই টুর্নামেন্টে নামলেই অন্য চেহারায় দেখা দেয় রিয়াল।

কাল নিজেদের অপ্রতিরোধ্য রূপ দেখানো রসদও ছিল রিয়ালের সামনে। প্রথম লেগে আয়াক্সের মাঠ থেকে ২-১ গোলে জিতে এসেছিল। কালকের ম্যাচটাও ছিল নিজেদের মাঠে। ফলে রিয়াল সমর্থকেরা ধরেই নিয়েছিল বার্নাব্যুতে ব্যর্থতার গল্পটা শেষ হবে। করিম বেনজেমা, গ্যারেথ বেল, মার্কো এসেনসিও, ভিনিসিয়াস জুনিয়রা পতপত করে উড়াবেন রিয়ালের জয় পতাকা। দলকে নিয়ে যাবেন কোয়ার্টার ফাইনালে। বাঁচিয়ে রাখবেন টানা চতুর্থ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বপ্ন।

কিন্তু ম্যাচের ৭ মিনিটেই রিয়াল সমর্থকদের এই আশায়, স্বপ্নে শঙ্কার বীজ বুনে দেন আয়াক্সের ফরোয়ার্ড জিয়েচ। আয়াক্সকে এগিয়ে দেন ১-০ গোলে। ১৮ মিনিটে বার্নাব্যুতে নেমে আসে শশ্মানের নীরবতা। আয়াক্স এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। আয়াক্সের হয়ে এবারের গোলটি করেন মেরেস।

এরপরও হয়তো রিয়াল সমর্থকেরা আশায় ছিলেন। কারণ তখনো রিয়ালের সামনে সুযোগ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু ৬২ মিনিটে রিয়ালের সেই আশাটুকুও শেষ করে দেন টাডিচ। তার দর্শনীয় গোলের পর বার্নাব্যুর ইলেকটনিক্স স্কোরবোর্ডে ভেসে উঠে রিয়াল ০: ৩ আয়াক্স! তা নিশ্চিতভাবেই বার্নাব্যুর গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের হৃদয়ে শেল হয়ে বিঁধছিল।

এরপরও অবশ্য রিয়ালের আশার বাতিটা নতুন করে জ্বেলেছিল এসেনসিও। ভিনিসিয়াসের বদলি হিসেবে নেমে দলকে এনে দিয়েছিলেন একটি গোল। কিন্তু ৭০ মিনিটে তার সেই গোল উৎসব দুই মিনিট পরই ডেকে যায় হতাশার কালো ছায়ায়। ৭২ মিনিটে রিয়ালের কফিনে চতুর্থ পেরেক ঠুকে দেন স্কোনে।

তার এই গোলের মধ্য দিয়েই সব শেষ হয়ে যায় রিয়ালের। মৌসুমের এখনো অনেকটা পথ বাকি। কিন্তু বিশ্বসেরা রিয়াল জানবে, সামনের সেই পথটুকু তাদের হাঁটতে হবে অনর্থক! আশাহীন পথিকের মতো!
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:১৫এএম/৬/৩/২০১৯ইং)