সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন : পুরো এলাকা কেপে উঠল বিকট শব্দে। এক দল লোক দৌড়াচ্ছে, আকাশে আতশবাজির আলোর ঝলকানি। ঘটনা কি? উচ্চ শব্দে বেজে উঠল গান ‘আজকের আকাশে… ..আজ জন্মদিন তোমার’, আজ আমাদের এলাকার এক মেয়ের জন্মদিন। তার হবু বর চমক দিতে এই আয়োজন করেছে। পুরো এলাকাবাসী এই ব্যাপক আয়োজন উপভোগ করল।
তিনদিন পর মেয়ের গায়ে হলুদ। সূর্য ডুবার পর থেকে উৎসব শুরু। তারপর ভোর রাত পর্যন্ত চলছে সঙ্গীত অনুষ্ঠান। বাইরে থেকে শিল্পী আনা হয়েছে। কিন্তু শব্দ ছাড়া আর কিছু উপভোগ করার ভাগ্য আমাদের নেই। আনন্দ আর আনন্দ। পুরো এলাকা বিয়ে বিয়ে উৎসব আলোর ঝলকানি। মেয়ের বিয়ের দিন কয়েক রাত জেগে উৎসব চলছে ওই বাড়িতে। সাথে পুরো এলাকাবাসী বিনামূল্যে গান উপভোগ করছেন।
বিনামূল্যের গানের এই উৎসব ব্যাপক বিরক্তির অবস্থার তৈরি করল। রাত জাগাটা আমাদের জন্য ভয়াবহ যন্ত্রণার। গান বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমার নেই কিন্তু হতাশ হলে কি চলে?
আমি শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০০৬ পড়লাম। সেখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিষেধ। তাছাড়া অনুমতি নেওয়াটা বাধ্যতামূলক। তবে অনুমতি কোনোভাবেই ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না। বিধিমালাটি প্রিন্ট করে থানায় দিয়ে আসলাম। পাশাপাশি অনুরোধ করলাম। রাত ১২টা পর্যন্ত যেন তাদের গান বাজানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
বাসায় এসে আমি ৮ টায় পুলিশকে অনুরোধ করলাম। তারা যেন জানিয়ে দেয় রাত ১২টার পর উচ্চ শব্দে গান বাজাতে নিষেধ করে দিয়ে আসে। টহল পুলিশের গাড়িটি এসে সর্তক করে দিয়ে যায়। ১২টায় আমি পুলিশকে ফোন দিলাম। ধন্যবাদ জানাতে। আর কোনো পটকার বিকট শব্দ নেই। গানের উচ্চ শব্দ নেই।
তারপর থেকে যতদিন ১২টার পর উচ্চ শব্দে গান বাজে আমি দুইবার ফোন দিই। একবার পুলিশকে অনুরোধ করি, দ্বিতীয়বার ফোন দেই ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য।
আপনার এলাকায় রাত বিরাতে ‘শীলা, শীলা কি…….’ গান কিংবা ‘বুকটা ফাইটা যায়’ অথবা যেকোনো উচ্চ শব্দ শুধু অভিযোগ দিন ফোনে। বাকি কাজ পুলিশের।
লেখক : অনলাইন এক্টিভিস্ট।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:৫০পিএম/৮/১/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি