

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : শারীরিক সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি প্রদানের ন্যুনতম বয়স ১৫ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। এর চেয়ে কম বয়সী কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ বলে বিবেচনা করা হবে।
বর্তমানে সেখানে ১৫ বছরের কম বয়সী কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে হলে ওই শিশুকে বাধ্য করা হয়েছিল তা প্রমাণ করতে হয়।
চিকিৎসক ও আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এই নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির ইকুয়ালিটি মিনিস্টার বা সমতা মন্ত্রী মার্লিন শিয়াপা।
সম্প্রতি দেশটিতে ১১ বছর বয়সী মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের দুটি ঘটনায় সেখানে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
ফ্রান্সের বর্তমান আইনে, এমন অপরাধীরা শিশুর উপর জোর খাটিয়েছে বা তাকে বাধ্য করেছে তা প্রমাণ করা না গেলে সেখানে শুধু ‘সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ বা যৌন নির্যাতনের’ জন্য সাজা দেয়া হয়, ধর্ষণের অভিযোগ করা যায় না। এর সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে পাঁচ বছরের জেল ও ৭৫ হাজার ফ্রাঁ (৮৭ হাজার ডলার) জরিমানা।
শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের যৌন নির্যাতন করার জন্য একই শাস্তি দেয়া হয়, কিন্তু ধর্ষণের শাস্তি আরও কঠোর সেখানে।
সম্প্রতি সেখানকার নীতিনির্ধারকেরা সম্মতি প্রদানের ন্যুনতম বয়স ১৩ নাকি ১৫ বছর করা হবে তা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
শিয়াপা বলেছেন, বেশি বয়সটাই নির্বাচিত করায় তিনি দারুন আনন্দিত।
গত নভেম্বরে ৩০ বছর বয়সী এক অপরাধীকে ১১ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। কারন তিনি ‘জোর খাটিয়েছিলেন’ তা প্রমাণ করা যায়নি।
এরপর একই রকম একটি ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী আরেকজনকে আদালত মুক্তি দিলেও, পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণ করে আদালত।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দেয়ার বৈধ বয়স বিভিন্ন রকম। অস্ট্রিয়া, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি ও পর্তুগালে এই বয়স ১৪ বছর। গ্রিস, পোল্যান্ড ও সুইডেনে ১৫ বছর। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, স্পেন ও রাশিয়ায় ১৬ বছর। সাইপ্রাসে তা ১৭ বছর।
যুক্তরাজ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দেয়ার বয়স ১৬ বছর। কিন্তু, সেখানে ১৩ বছরের নিচে কোনো শিশু কোনো অবস্থাতেই যৌন সম্পর্কের জন্য সম্মতি দিতে পারবে না বলে আইন রয়েছে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৯:২০পিএম/৬/৩/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :