ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : এক সময়ের প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল ক্যামেরুনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেলো। সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘কম’ নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রথা রক্ষার ব্যাপারে বেশ সচেতন।
অন্যদিকে ক্যামেরুনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অ্যাম্বাজোনিয়া ফ্রিডম ফাইটারস দল। ইংরেজি ভাষাভাষি এই সম্প্রদায়টি গত কয়েক বছর ধরে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।
সম্প্রতি অ্যাম্বাজোনিয়া সেনাদের কারণে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় বদলে গেছে বেলোর দৃশ্যপট। সবখানেই শুধু মৃত্যুর গন্ধ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে শতাধিক পরিবার।
কাউকে আবার আশ্রয় নিতে হয়েছে দূরের কোনো শহরে। আর বেলোতে রয়ে যাওয়া কম সম্প্রদায়ের নারীদের পুরুষের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।
গ্রামের বেশিরভাগ পুরুষ ভিড়ছেন অ্যাম্বাজোনিয়া সেনাদের দলে। বেলো গ্রামের প্রতিটি কোনায় এই সেনা সদস্যদের বিচরণ করতে দেখা যায়। যার পরিণতি হয় বেশ ভয়াবহ।
ক্যামেরুনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেলোতে সহিংসতা।
ক্যামেরুনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেলোতে সহিংসতা। ছবি : সংগৃহীত
শহরটিতে এখন যুদ্ধ-সহিংসতা যেন নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে যুদ্ধের কারণে নৃশংসতা চলতি বছর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শহরের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া যায় একদম জ্বলন্ত অবস্থায়।
নোয়াম ফুটুঙ্গা, ৬০ বছর বয়সী ৫ সন্তানের মা যেদিন তার সামনে প্রিয় সন্তানকে সেনারা গুলি করে হত্যা করে। তার পর পরই নোয়াম ঘরছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বেলোতে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে নোয়াম পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাজধানী ইয়ন্দোতে।
নোয়াম বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। তাকে বাঁচানো যায়নি। এরপর থেকে বেলোর নারীরা বিভিন্ন ঘটনায় আহতদের সাহায্য করে থাকে। কারণ পুরুষরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারানোর আতঙ্কে থাকে। এমন অবস্থায় মেয়েরাই এখন ছেলেদের ভূমিকা পালন করছে।
একসময় মরা মানুষের গন্ধে পুরো শহর গুমোট হয়ে উঠেছিল। পরে আমরা নারীরাই মাটি খুঁড়ে তাদের কবর দিয়েছি। আমাদের সম্প্রদায়ে মেয়েদের এমন কাজ করার নিয়ম ছিল না। কিন্তু উপায় না পেয়ে আমাদেরই পুরুষদের এসব দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে।’
অ্যাম্বাজোনিয়া সেনাদের দলে ভিড়ছেন বেলোর পুরুষেরা।
অ্যাম্বাজোনিয়া সেনাদের দলে ভিড়ছেন বেলোর পুরুষেরা। ছবি : সংগৃহীত
বেলোর পাশের জিনেকেজা গ্রামের চিত্র প্রায়ই একই রকম। এখানকার নারীরাও গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা লাশগুলোকে খুঁজে বের করে সৎকারের ব্যবস্থা করেন।
নদীতে জোয়ারের তোড়ে ভেসে আসা লাশগুলোকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এই নারীরাই। অথচ কম সম্প্রদায়ে মৃতদের সৎকারে নারীদের সম্পৃক্ততার কোনো নিয়ম নেই।
এইসব কাজের দায়িত্ব শুধু পুরুষের। সম্প্রদায়ের প্রিন্স মনে করেন, নারীরা লাশ সৎকার করার কারণে এই অঞ্চলের সামনে আরও অশুভ দিন ঘনিয়ে আসবে।
প্রিন্স বলেন, ‘সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী একজন নারীর এমন কাজ করার কোনো সুযোগই নেই। যখন নিয়ম ভাঙ্গা হয়, তখন আমাদের ওপর দিয়ে অনেক দুর্যোগ বয়ে যায়। তবে এজন্য নারীদের দোষারোপ করারও কোনো উপায় নেই। কারণ যা হচ্ছে, এতে কারো কোনো হাত নেই।’ সূত্র : বিবিসি
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১:০০পিএম/২৬/৭/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি