
ঢাকারনিউজ২৪.কম:
হয়ত এমনি সুযোগের অপেক্ষায় ছিল হাওরাঞ্চলের অসাধু ব্যবসায়ীরা। অকাল বন্যায় সোনার ধান তলিয়ে যাওয়াতে অনেক ফুরফুরে মেজাজে আছেন তারা। কৃত্রিম সস্কট দেখিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাওরের পানির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।
বিশেষ করে চালের দাম আকাশচুম্বী। পানিবন্দি হাওরের অসহায় কৃষকরা নিরুপায় হয়ে দ্বিগুণ দামে কিনছে চাল। যা সম্ভল হারানো কৃষকের ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
জেলার কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার হাওরঞ্চলের কৃষক কদিনের ব্যবধানে জিম্মি হয়ে পড়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে। একদিকে চোখের সামনে তালিয়ে গেছে সোনার ফসল অন্যদিকে মাথার উপর ঋণের বোঝা আবার ঘরের খাদ্য সঙ্কটের সাথে সাথে চালের বাজারে আগুন। সবমিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অকাল বন্যায় ফসল হারানো এসব কৃষক।
তথ্যমতে, কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে ২২শ টাকা চালের বস্তা বিক্রি করছে ২৬-২৮শ টাকা এবং ১২-১৩শ টাকার আটার বস্তা বিক্রি করছে ১৫-১৬শ টাকা দরে। এ চিত্র জেলার সর্বত্র।
ক্রেতাদের অভিযোগ জেলার অধিকাংশ হাওর তলিয়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে চাল-আটার দাম বৃদ্ধি করে একদিকে মুনাফা লুটছেন অন্যদিকে প্রতারণা করছেন ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকদের সঙ্গে।
কৃষি কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরপাড়ের জুড়ী উপজেলাতে ৬ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কুলাউড়া উপজেলাতে ৭ হাজার ৪৯০ হেক্টর ও বড়লেখা উপজেলাতে ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ- দুই উপজেলায় কমপক্ষে ৯-১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত তিন-চার দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে উজানের পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরের পানি বাড়ছে অতিদ্রুত গতিতে।
কৃষক গফফার, আইয়ুব, মাখন, ইসরাব আলী, হাজী চলিমুল্লা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি চাষ করেছিলাম কিন্তু সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন আবার চালের বাজারে আগুন। পরিবার কীভাবে চালাবো চিন্তা করে কুলকিনারা পাচ্ছি না।
কৃষাণি জয়তুন বিবি বলেন, বোরো ফসল দিয়ে আমাদের সংসার ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া খরচ চালাতাম কিন্তু এখন কীভাবে বাচ্চাদের মুখে ভাত দেব ভেবে পাচ্ছি না।
মোলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দমন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার তাই করবো। এ ব্যাপারে ইঞ্চি পরিমাণ ছাড় দেবো না।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এনএম /০৬.২৯ পিএম/০৭/৪/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি