• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

মোবাইলে চার্জ বিক্রি করে চলে তাঁদের সংসার


প্রকাশের সময় : মে ৩০, ২০১৭, ৮:০৭ PM / ১২৮
মোবাইলে চার্জ বিক্রি করে চলে তাঁদের সংসার

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা : বৈদ্যুতিক চার্জ বিক্রি করে সংসার চালান তিন ব্যক্তি। এরা হলেন – নূরুন্নবী সরকার (৪৫), আব্দুল মান্নান (৬৫) ও আমির হামজা (৬০)। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজারের ধান হাটি সংলগ্ন পূর্ব পাশে তাদের এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়াই তাদের ব্যবসা।
আমির হামজার বাড়ি ছিল গাইবান্ধার মোল্লারচর এলাকায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর অব্যাহত নদীর ভাঙনে ঘববাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় তিনি সপরিবারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামারা লালদিঘি গ্রামে এসে ঠাঁই নেন। বর্তমানে তিনি ঘোড়ামারা লালদিঘি গ্রামের বাসিন্দা। অপর দুইজনের মধ্যে নূরুন্নবীর বাড়ি একই ইউনিয়নের মালেকাবাদ গ্রামে। উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের দুধিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান।

আমির হামজা দিনমজুরের কাজ করতেন। এ কাজ করে একটু পুঁজি হলে পরে শুরু করেন চালের ব্যবসা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাগদা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চাল বেচাকেনা করতেন। কিন্তু বয়সের ভারে ব্যবসা করার সমার্থ না থাকায় প্রায় বছর দুইয়ের আগে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়ার ব্যবসা।

আমির হামজার পরিবারে আলমগীর হোসেন (২৮) ও সাবানা বেগম (১৮) নামে দু’টি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে আলমগীর হোসেন পরিবার নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টর্সে চাকরি করেন। মোবাইল ফোনে চার্জ বিক্রির উপার্জিত অর্থ দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি মোবাইল চার্জের জন্য নেন তিন টাকা। এভাবে ব্যবসা শুরুর দিকে তার মাসিক আয় হতো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

আব্দুল মান্নান জানান, তারা তিনজনই এক সঙ্গে চালের ব্যবসা করছিলেন। প্রায় বছর দুয়েক আগে এ ব্যবসা তিনজনই এক সঙ্গে ছেড়ে দিয়ে নতুন করে একসঙ্গে মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবসা শুরু করেন। সংসার জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তাদের নাম মরিয়ম খাতুন ও রবিউল আউয়াল। এদের মধ্যে মরিয়মের বিয়ে হয়েছে, আর রবিউল আউয়াল স্থানীয় কাঁঠালবাড়ি দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ে।তিনি আরো জানান, চাল বাকিতে বিক্রি না করলে ক্রেতারা মন খারাপ করেন। আবার বাকি দিয়ে টাকা চাইতে গেলেও দ্বন্দ্ব হয়। এ সব কারণে তারা চালের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন মোবাইল ফোনে চার্জ বিক্রির ব্যবসা। এ ব্যবসার উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ছেলের লেখাপড়াসহ চলে পুরো সংসার।

নূরুন্নবী সরকার জানান, তিনজনের মধ্যে বয়স কম হলেও তার সঙ্গে অপর দুইজনের সম্পর্কের কোনো ঘাটতি নেই। তাদের সঙ্গে পূর্ব থেকেই ব্যবসা করে আসছেন। বাড়ির তিন শতক জায়গা ছাড়া আর কিছুই নেই। দাম্পত্য জীবনে তিন মেয়ের জনক তিনি। তার উপার্জনের একমাত্র ভরসা মোবাইল ফোনে চার্জ বিক্রির ব্যবসা। তিনি দৈনিক ৮০ থেকে ৯০টি মোবাইল ফোনে চার্জ দিয়ে থাকেন। গড়ে ৩ টাকা হিসেবে দৈনিক ২৪০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা আয় হতো। কিন্তু এখন বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৮:০০পিএম/৩০/৫/২০১৭ইং)