• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

মোদি মিথ্যাবাদী চৌকিদার : মমতা


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩১, ২০১৯, ১১:২৮ AM / ১৫০
মোদি মিথ্যাবাদী চৌকিদার : মমতা

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘মিথ্যাবাদী চৌকিদার’এবং নিজেকে ‘জনগণের পাহারাদার’হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে ‘চোর-ডাকাত’এর দল বলেও অভিহিত করেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘বিজেপি এই রাজ্যে সমান্তরাল সরকার চালানোর চেষ্টা করছে। মানুষকে ভাঁওতা দিচ্ছে।’

বুধবার রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভায় বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আগাগোড়া আক্রমণাত্মক। মোদি-শাহ থেকে শুরু করে বিজেপিকে ‘চোর-ডাকাত-গুণ্ডা-মিথ্যেবাদী’সবই বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলে বলেছেন, ‘তোমরা চোর-ডাকাতের দল। তোমার মতো মিথ্যা কথা বলা চৌকিদার আমি নই। ১৫ লক্ষ টাকা করে ব্যাঙ্কে দিয়ে দেব বলি না। জনগণের টাকা লুঠ করি না।’

এর পরই জনগণের উদ্দেশে মমতার সতর্কবাণী, ‘আমি মানুষের পাহারাদার। আমি আছি বলে এ রাজ্যে কোনও আঁচ পান না আপনারা। দেশে কী হচ্ছে রাজ্যের মানুষকে বুঝতে দিই না। আগলে রাখি।’

আনন্দবাজার বলছে, রাজ্যের প্রকল্প বনাম কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে এদিন মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়েক দিন আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যে এসে পকেট থেকে তালিকা বার করে দাবি করেছিলেন কেন্দ্রের শতাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে রাজ্য সরকার নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে, অথবা করতে দিচ্ছে না।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভায় দাঁড়িয়ে বিজেপির ওই দাবি কার্যত তুলোধুনো করে প্রকল্পের নাম ধরে ধরে জানিয়ে দেন, কেন্দ্র তাদের প্রকল্প করার বহু আগে থেকেই রাজ্য প্রকল্পগুলি শুরু করে দিয়েছে। প্রবল আর্থিক চাপ, কেন্দ্রের দেনা ইত্যাদি শোধ করতে হলেও প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়নি, বরং নতুন নতুন সংযোজন হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লির কিছু অর্ধশিক্ষিত, গর্দ-শিক্ষিত নেতা বলছেন, কন্যাশ্রী নাকি আমরা অনুকরণ করেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। কন্যাশ্রী ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল। বেটি বাঁচাও শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। আপনারা আমাদের টুকলি করেছেন। নির্মল বাংলা কবে শুরু হয়েছে? আর নাচ গান করে স্বচ্ছ ভারত বলে কবে রাস্তায় নেমেছেন? ন্যাকামো যত!’

একই সঙ্গে তার মন্তব্য, সারাদেশে বেটি বাঁচাওয়ের বাজেট ১০০ কোটি টাকা। সেখানে শুধু কন্যাশ্রীর জন্য রাজ্যের ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা।

মমতার আরও দাবি, এখানে কৃষক বীমার টাকা কেন্দ্র দেয় না, রাজ্যই দেয়।

তিনি বলেন, ‘ওরা পোস্ট অফিসকে ব্যবহার করছে। দালালি করে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া কার্ড পাঠাচ্ছে। এ সব প্রকল্পে আমরা ৮০ টাকা দিই। ওরা ২০ টাকা দেয়। চ্যালেঞ্জ করলাম। ভুল বললে গর্দান কেটে নেবেন।’

উল্লেখ্য, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে আক্রমণ করে মঙ্গলবার অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, মে মাসের শেষে ভোট গণনার দিন, বেলা ২টা নাগাদ এ রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতন হবে।

তার প্রতিক্রিয়ায় মমতার কটাক্ষ, ‘কয়েকটা গদ্দার, গুন্ডা এসে বলে দিচ্ছেন, নির্বাচনের ফল কবে বেরুবে। কটার সময় বেরুবে। নির্বাচন কমিশনটাও ওদের হয়ে গেছে নাকি? আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে এই প্রশ্ন নিয়ে যাব!’

এর পরই তার হুঙ্কার, ‘এ রাজ্যে ৪২টা আসনেই তোমরা হারবে।’
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:২৮এএম/৩১/১/২০১৯ইং)