• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র প্রশ্ন!


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৩, ২০১৮, ১১:২১ PM / ১৩২
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র প্রশ্ন!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করছে, মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা রোহিঙ্গাদের রক্ষার বদলে বিপন্ন করবে। সংস্থাটি তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর হলে তারা নির্যাতন, নিরাপত্তাহীনতা এবং খাদ্যাভাবে পড়ার আশংকা রয়েছে।

কাজেই বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ওই চুক্তিও স্থগিত করার পক্ষে মত দেয় সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এই প্রত্যাবাসন চুক্তির ফলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। এই বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন যে সমস্ত রোহিঙ্গা ফিরে যাবেন তারা কোথায় থাকবেন এবং সেখানে তাদের নিরাপত্তা কতটুকু থাকবে সেটাও দেখা হবে।

বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, “যারা প্রত্যাবাসিত হবেন তারা সেখানে গিয়ে কি অবস্থায় থাকবেন। প্রত্যাবাসনের পর তারা কেমন থাকবেন, তাদের নিরাপত্তা কতদূর থাকবে সেটাও দেখা হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এই কাজটা করবে। উভয় দিক থেকেই প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। তারা কিছু কাজ করেছে বলে জানিয়েছে। সেগুলোও দেখা হবে।”।

তবে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ বলছে, ২০১২ সালে জাতিগত নিধনের শিকার হওয়া ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আগে থেকেই রাখাইন প্রদেশের ‘অস্থায়ী’ ক্যাম্পে রয়েছে। আগের এসব মানুষদের জন্য মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। কিংবা টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারেও তাদের অতীতের রেকর্ড খুবই খারাপ।

সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, “সব লক্ষণই বলছে যেসব বার্মিজ ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেগুলো হবে রোহিঙ্গাদের জন্য খোলা আকাশের নিচে কারাগার তুল্য”।

তিনি আরও বলেন, “১ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা যে ‘অস্থায়ী’ ক্যাম্পগুলোতে গত ৫ বছর ধরে দিনাতিপাত করছে, তার চেয়ে নতুন ক্যাম্পগুলো খুব একটা ভালো কিছু হবে তেমনটি বিশ্বাস করার মত কারণ খুব কমই আছে।”

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে গত ১৬ই জানুয়ারি মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ একটি সমঝোতার ঘোষণা দেয়। এই চুক্তি অনুসারে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ‘ফিজিকাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কথা থাকলেও সোমবার বাংলাদেশের কর্মকর্তারা সেটি হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন।

শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আজাদ জানান, তারা প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তবে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু হতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, “আমরা যদি প্রত্যাবাসনকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি তাহলে একে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হল ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা যে, কোন নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে, দ্বিতীয় হল কাঠামোগত প্রস্তুতি ও তৃতীয় হল শারীরিক বা মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু করা”।

তার মতে তারা প্রথম ধাপটি অতিক্রম করেছেন। কারণ একটি ফ্রেমওয়ার্ক হয়েছে এবং ১৯শে ডিসেম্বর জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি হয়েছে। এরপর চলতি মাসে নেপিদোতে এ কমিটির বৈঠকে প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত চুক্তিও সাক্ষরিত হয়।

তিনি জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ দরকার সেগুলো হাতে নেয়া হয়েছে। এরপর প্রকৃত প্রত্যাবাসনের কাজে হাত দেয়া যাবে।

তবে এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা শ’খানেক রোহিঙ্গা এই প্রত্যাব্যাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিক্ষোভ দেখায়। ব্র্যাড অ্যাডামস বলছেন, বার্মিজ সেনাদের দ্বারা হত্যাকাণ্ড, গণ ধর্ষণ এবং গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের আবার সেই একই সেনাদের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না”।

তিনি মনে করেন, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি লোক দেখানো কর্মসূচি! যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও কার্যকর প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার যে আসলে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই বিষয়টি গোপন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটেরেসের ১৬ই জানুয়ারির বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। যেখানে তিনি বলেছেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হবে তাদের বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে স্থানান্তর, দীর্ঘদিনের জন্য এই পরিস্থিতির মধ্যে রাখা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার অনুমতি না দেয়া।

এইচআরডব্লিউ মনে করে, ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারীদের তদারকি ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। কিন্তু দাতা সংস্থা, গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিচ্ছে না মিয়ানমারের সরকার। কেবলমাত্র গুটিকয়েক মানবাধিকার সংগঠনকে তারা রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সাহায্য প্রদানের অনুমতি দিচ্ছে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:২০পিএম/২৩/১/২০১৮ইং)