• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের বিচার হবে : বিএনপি


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০১৮, ৫:২২ PM / ১২৯
মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের বিচার হবে : বিএনপি

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগকে বিচারের সম্মুখীন হতেই হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

২৮ অক্টোবর, রবিবার নয়াপল্ট‌নে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

রিজভী বলেন, ‘২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী রাজনৈতিক সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে পাশবিক প্রহার, গুলি আর ইট-পাটকেলের আঘাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ছয়জনকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করা হয়। এই আদিম অমানবিক উল্লাস দেখে দেশবাসীসহ সারা বিশ্বাস আতঙ্ক ও বেদনায় শিহরিত হয়ে ওঠে।’

বর্তমানে আওয়ামী সরকারের সৃষ্ট অবিরাম রক্তপাতের ফলে দেশজুড়ে নিস্তব্ধতার আচ্ছাদন তৈরি করার চেষ্টা হলেও ২৮ অক্টোবরের সেই মৃত্যু-বিভীষিকা জনগণ এখনো ভুলে যায়নি। তারা সরকারেই থাকুক আর বিরোধী দলেই থাকুক, সহিংস সন্ত্রাসই যে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও নীতি প্রতি মুহূর্তে সেটির প্রতিফলন ঘটে। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসের ছোবলে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও বিচারবহির্ভুত হত্যার শিকার হতে হয়েছে। এগুলো চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ, এজন্য আওয়ামী লীগকে বিচারের সম্মুখীন হতেই হবে।’

প্রধানমন্ত্রী মনোবাঞ্ছা পূরণে নিরন্তর কাজ করছেন জানিয়ে রুহুল ক‌বির বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কতিপয় আত্মবিক্রয় করা লোকজনদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এরা সমস্ত শক্তি দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার চিরদিনের জন্য হরণ করে নিতে শেখ হাসিনার মনোবাঞ্ছা পূরণে নিরন্তর কাজ করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনায় বললেন, সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার হবে। আবার ইসি সচিব চট্টগ্রামে বললেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৪ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনবে নির্বাচন কমিশন। এগুলো নাকি শহর এলাকায় ব্যবহার করা হবে।’

‘সিইসি ও ইসি সচিব দুজনই আওয়ামী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর। এদিকে রংপুরে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বললেন, ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য ভোটারদেরকে গোলকধাঁধার মধ্যে ফেলতে কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা এ সমস্ত বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলছেন। আসলে তারা ইভিএমের নামে মহাজালিয়াতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।’

ইভিএম ক্রয় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের কিছু লোকের পকেট ভারী করার জন্য সারা দুনিয়ায় ধিকৃত ও বিতর্কিত ইভিএম মেশিন ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকায় কেনা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার ভোটারবিহীন সরকারের একনিষ্ঠ সেবক বলেই এ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে বিরোধিতা সত্ত্বেও সেই ইভিএম পদ্ধতি নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।’

‘সীমিত আকারের কথা বলা হলেও আরপিও সংশোধন করে তারা ব্যাপকভাবেই আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে। ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান একতরফা নির্বাচন করতে সব অস্ত্র ব্যবহার করছেন, যাতে তার ক্ষমতায় থাকাটা নিষ্কণ্টক হয়। এই কারণে তার আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন দিয়ে জালিয়াতির বাক্স ইভিএম চালু করতে চাচ্ছেন।’

নৌকার পক্ষে ‘ডিজিটাল ভোট-ডাকাতি’ মন্তব্য করে রুহুল কবির বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে সকলের চোখের সামনে পুলিশের সহায়তায় সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের ভোট ডাকাতি দেখার পরেও শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইভিএম পদ্ধতি চালু করবেন, এটি শিশু ও পাগল কেউই বিশ্ববাস করবে না।’

‘শুধু নৌকার পক্ষে ডিজিটাল ভোট-ডাকাতি করতেই এই ইভিএম ব্যবহারের তোড়জোড়। সকলের মত অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশনের একতরফাভাবে ইভিএম চালু ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার সামিল। আমি দলের পক্ষ থেকে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের ভোট ধ্বংসের ষড়যন্ত্র-জাল ছেঁড়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, আজম খান, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৫:১৮পিএম/২৮/১০/২০১৮ইং)