ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : বিশ্বের কাছে সৌদি আরব রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার একটি দেশ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু গত মার্চে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান দেশকে প্রগতিশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টায় নারীদের পোশাক বিধি শিথিল করার বিষয়ে মুখ খুলেন। কিন্তু তার কথায় যে তেমন কোনো কাজ হয়নি তা আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছে সে দেশের নারীদের প্রতিবাদ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে সৌদি আরবের কিছু নারী বোরকার বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনসাইড-আউট আবায়া-হ্যাশট্যাগ দিয়ে ছবি পোস্ট করছেন তারা।
সৌদি নারীরা তাদের এই অভিনব প্রতিবাদে আবায়া বা বোরকা উল্টো করে পরে সেই ছবি পোস্ট করছেন। কড়া নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছবিতে দেখা যাচ্ছে পোশাকটির ভেতরের অংশের লাইনিং ও সেলাই।
এদিকে হাজার হাজার নারী এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে টুইট করেছেন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সৌদি আরবের নারী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর বিধিনিষেধ মেনে সৌদি নারীদের সে দেশে পোশাক পরতে হয়। সৌদি আরবে নারীদের জনসমক্ষে পোশাকের ওপর অবশ্যই কালো রংয়ের বোরকা এবং হিজাব পরতে হবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রে হিজাব না পরলেও হবে, কিন্তু বোরকা পড়তে হবে। আর পোশাকবিধি ভাঙলে পেতে হয় কড়া শাস্তি।
কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে সৌদি যুবরাজ বলেছিলেন, নারীদের পোশাকের ওপর আবায়া বা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক বলে ইসলামধর্মে কোনো বিধান নেই। নারীরা মার্জিত এবং সম্মানজনক পোশাক পরবেন।
টুইটারে ইনসাইড-আউট আবায়া-হ্যাশট্যাগ দিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
যুবরাজের বক্তব্যের পরও দেশটিতে নারীদের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবেও কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
সৌদি নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে পোস্ট করেছেন। হাওরা নামের একজন সৌদি নারী টুইটারে লিখেছেন, ‘আপাদমস্তক ঢাকার কালো রঙের পোশাক আবায়া উল্টো করে পরে সেই ছবি পোস্ট করে আমরা রাষ্ট্রের বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।’ তবে নিজেদের চেহারা প্রকাশ করছেন না ওই সব নারীরা। কারণ পরিচয় প্রকাশ পেলে তাদের জীবনের ওপর হুমকি আসতে পারে।
এর আগে মুখ থেকে নিকাব সরানোর ছবি টুইটারে পোস্ট করার জন্য ২০১৬ সালে গ্রেফতার হন মালাক আল-শেহরি নামে এক তরুণী। মালাক টুইট করেন, ‘নিপীড়নের প্রতিবাদ করার অনুভূতি একমাত্র সেই-ই বুঝবে যে সেই জায়গায় রয়েছে।’
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/৭:৪৫পিএম/১১/১৮/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি