ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : কেপ টাউন টেস্টে শনিবার ক্রিকেট বিশ্ব কাঁপিয়ে দেওয়া 'বল ট্যাম্পারিং' কেলেঙ্কারির জন্য রোববার খেলার মাঝপথে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের পদ ছাড়তে হয়েছে তাকে। এবার ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের শাস্তির ঘোষণা দিল। স্মিথকে ১ টেস্টে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সাথে ম্যাচ ফির ১০০% জরিমানা করা হয়েছে। রোববার এই ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ওটা পূর্ব পরিকল্পিত, লিডারশিপগ্রুপ আগে ঠিক করেছিল, শনিবার ঘটনার পর দিনের শেষে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন স্মিথ। আর যার হাতে ঘটনাটা ঘটেছে সেই ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে তাকে তিনটি ডিরেমিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। শাস্তি পেলেন বলে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ ও শেষ টেস্টে খেলা হচ্ছে না স্মিথের।
আইসিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের 'খেলার স্পিরিটের' বিরুদ্ধে যাওয়া কর্মকাণ্ড ঘটানোয় স্মিথ ও ব্যানক্রফটের এই শাস্তি। আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন বলেছেন, 'অস্ট্রেলিয়ার লিডারশিপ গ্রুপের পরিকল্পিত এই কাজ খেরার স্পিরিটের পুরো বিরুদ্ধে যায়। এতে করে খেলার সততার ক্ষতি হয়েছে, ক্ষতি হয়েছে খেলোয়াড় ও খেলাটির সততারও। এটা তাই গুরুতর ব্যাপার। অধিনায়ক হিসেবে স্টিভ স্মিথকে তার খেলোয়াড়ের আচরণের পুরো দায়িত্ব নিতে হবে। এই কারণেই তাকে নিষিদ্ধ করা হলো।'
বিশ্ব ক্রিকেটে এখন তোলপাড় চলছে ব্যানক্রফটগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফট কেপটাউনে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে বল ট্যাম্পারিং করার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েন টেলিভিশন ক্যামেরায়। আইসিসি তাকে অভিযুক্ত করে। দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট এসে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন।
একটা হলুদ কাপড় ব্যবহার করেছেন ব্যানক্রফট। মাঠের ধুলো লাগানো ছিল। সেটা দিয়ে বল ঘসেছেন। এটা অবৈধ কাজ। বলের বিকৃতি করার চেষ্টা। বাড়তি সুবিধা পেতে। কাপড়টা ঠাণ্ডা মাথায় পকেটে ঢুকিয়ে ফেললে হয়তো কথা উঠতো না। কিন্তু ব্যাপারটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বুমেরাং ও আরো খারাপের পর্যায়ে চলে যায় ব্যানক্রফট কাপড়টি বা প্রমাণটি ট্রাউজারের সামনের অংশে হাত ঢুকিয়ে ভেতরে ভরে দিলে। আম্পায়ারের চোখে ওটাই সন্দেহজনক লাগে। কিন্তু আম্পায়ার যখন প্রমাণটি দেখতে চান তখন ব্যানক্রফট হলুদ নয় পকেট থেকে একটি কালো কাপড় বের করে দেখান। ক্যামেরা তো আগেই হলুদ কাপড় ধরেছে। ক্যামেরার এই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই ম্যাচ রেফারি বল ট্যাম্পারিংয়ের চার্জ আনেন।
এই ঘটনায় দলের তীব্র সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। জানিয়েছে, আইসিসি যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মতো করে তদন্ত করে দোষী কাউকে পেলে ব্যবস্থা নেবে। অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের বর্তমান সাবেক অনেক ক্রিকেটার শনিবার থেকেই মুখ খুলেছেন। স্মিথের স্বীকারোক্তির পর নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। স্মিথ দোষ স্বীকার করে খুব দুঃখিত বলেছেন। কিন্তু তাতেও তার কোনো লাভ হচ্ছে না। আরো ঝড়ের মুখে পড়ার শঙ্কা তার জরন্য রয়েই যাচ্ছে। এই ঘটনার মধ্যেই নিউ ল্যান্ডসে চলছে টেস্ট ম্যাচটি। যেখানে অস্ট্রেলিয়া দলকে চতুর্থ দিন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম পেইন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ প্রেস কনফারেন্সে শনিবার বিকেলে স্বীকার করলেন, এটা তাদের পরিকল্পিত। আরো জানালেন, সিনিয়র খেলোয়াড়রা মিলেই এই হীন চক্রান্ত করেছেন। তবে সেই সিনিয়র খেলোয়াড় কারা, নাম বলেননি। কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় দিনের খেলার লাঞ্চের সময়ই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এটাকে ব্যানক্রফটগেট কেলেঙ্কারি বলা যায়। বলা যায় এটাই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের অন্ধকারতম দিন। এই কেলেঙ্কারিতে স্মিথ এবং তার ডেপুটি ডেভিড ওয়ার্নারকে অধিনায়কত্ব এবং সহ-অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। সেটা আপাতত এই টেস্টের জন্য। তবে এই দু'জনার নেতৃত্ব ভাগ্য মোটেও ভালো দেখা যাচ্ছে না। সূত্র : আইসিসি
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১০:২৫পিএম/২৫/৩/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি