• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

ফেনীতে সবজি চাষে বিপ্লব


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৯, ২০১৭, ১০:৪৩ AM / ১২৯
ফেনীতে সবজি চাষে বিপ্লব

 
ঢাকারনিউজ২৪.কম, ফেনী : শীতকালীন সবজি চাষে বদলে গেছে ফেনীর দাগনভূঁঞার বহু কৃষকের ভাগ্য। আশানুরূপ দাম পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেই এখন কৃষক ঘরে তুলছেন নগদ অর্থ। শীত মৌসুমে ব্যবসায়ীরা আগ্রহের সঙ্গে জমিতে সবজি চাষ করে লাখ লাখ টাকার ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কুমড়া, সিম, টমেটো লাউসহ বিভিন্ন সবজি ফেনী-নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। মৌসুমি সবজি চাষ করে এখন অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। জায়লস্কর ইউনিয়নে উত্তর বারাহী গোবিন্দপুর গ্রামের আবুল কাসেম তাঁদের মধ্যে একজন।

তাছাড়া পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে জগতপুর এলাকার নেছার উদ্দিন, মনির আহাম্মদ, আনোয়ার হোসেন, কেরোনিয়ার ছিদ্দিকুর রহমান, বেলাল থাকলেও তবে কাসেমের নাম আসে সবার আগে।

কাসেম জানান, তিনি দারিদ্রের কারণে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি। জীবন যুদ্ধের তাগিদে সম্পৃক্ত হন কৃষি কাজে। প্রায় এক যুগ ধরে এই কাজ নিয়েই চলছে তার জীবন সংগ্রাম। পড়ালেখা তেমন না থাকায় কি করবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। অনেক ভেবেচিন্তে শুরু করেন সবজি চাষ। সবজি চাষ করে বদলে গেছে তাঁর ভাগ্য। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়নও অনেকটা কমে যায়। গত বছর শীত মৌসুমে দুই একর জমিতে সবজি চাষ করে তিনি প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর চাষ করেছেন ৫ একরে।

কেরোনিয়া গ্রামের প্রবীণ চাষী ছিদ্দিকুর রহমান জানান, গত বছর ৩০ শতক জমিতে বেগুনের চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। ফলে এবছরও একই আবাদ করছেন। তিনি বেগুনের কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করেছেন। এতে তার ফলনও হয়েছে প্রচুর।

ইতিমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন। তার চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন। গত বারের চেয়ে এবার দামও অনেক বেশি। আশা করছেন আগের বছরের চেয়ে লাভের অংশ এবার আরো বেশি পাবেন।

জগতপুর গ্রামের নেছার উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেন। বিভিন্ন কারণে তিনি আর লিখাপড়া করেননি। এই সামান্য পড়া লিখা নিয়ে তেমন কোনো চাকরি পাচ্ছিলেন না তিনি। হতাশার মধ্যে তার জীবন কাটচ্ছিল তার। এরই মধ্যে তিনি শুরু করলেন আদিম পেশা কৃষিকাজ এবং রবিশস্য চাষাবাদ। সে বছর তার খরচই উঠল না। কষ্টে দিন কাটত। কারণ তার কৃষিতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব ছিল। এর মধ্যে পরিচয় হয় স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মারুফের সাথে। তার পরামর্শে আবার শুরু করেন কৃষি কাজ। প্রথমে লাউ চাষ দিয়ে আরম্ভ করেন। লাউ চাষের শুরুতেই আসে সফলতা। এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে। লাউ চাষে দুইটি লাভ খুঁজে পায় নেছার। প্রথমে লাউ বিক্রয়, এরপর লাউয়ের ডগা বিক্রয়। চলতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন। মাচা তৈরিসহ বিঘা প্রতি যে খরচ হয়েছে তার থেকে লাভ হয়েছে অনেকগুণ বেশী। এখন জমিতে ফুলকপি, টমেটো, ক্ষিরাসহ নানা রকম ফসল রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ইয়াকুবপুর, চন্ডিপুর, আলমপুর, গজারিয়া, ওমরাবাদ, বৈঠারপাড় হাসানগণিপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক হাজার একর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, ক্ষিরা, মূলা, বেগুনসহ নানা রকম রবি ফসল।

দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুজ্জাতুল ইসলাম জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদ হয়েছে। সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:৩৮এএম/১৯/১/২০১৭ইং)