নিজস্ব প্রতিবেদক: ফতুল্লার সস্তাপুর মাজার রোড এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে আগুন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে সস্তাপুর হযরত শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি ঝুটের গোডাউন সহ দু’টি প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আগুন আতঙ্কে ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি একটি আবাসিক এলাকা। অথচ এ এলাকায় অসংখ্য ঝুটের গোডাউন গড়ে উঠেছে। যার অধিকাংশ গোডাউন গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাসা বাড়ীর ভিতরে। ইতোপূর্বে কোনো ধরনের দূর্ঘটনা না ঘটায় এতদিন এ বিষয়টি নিয়ে কারও মনে কোনো ভয় বা আতঙ্ক দেখা দেয়নি। তবে গত মঙ্গলবার রাতে হৃদয় আহাম্মেদের মালিকানাধীন একটি ঝুটের গোডাউন ও ইমরান আহাম্মেদের মালিকানাধীন হোসিয়ারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটার পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, এটি একটি ঘনবসতি এলাকা। তার উপর আশপাশে নেই কোনো জলাশয় কিংবা পুকুর। সুতরাং এসব ঝুটের গোডাউনে অগ্নিকান্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটলে খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কোনো উৎস খুঁজে পাবে না। ফলে আগুন আশপাশের বাড়ীঘরে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে।
গত মঙ্গবারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হোসিয়ারী মালিক ইমরান আহাম্মেদ ঢাকারনিউজকে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা হৃদয় আহাম্মেদের মালিকানাধীন ঝুটের গোডাউনে প্রথমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে আগুন লাগার বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানাই, তারপর আমি আমার প্রতিষ্ঠানে যাই। কিন্তু তখনও আমার প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসতে দেরী করায় একপর্যায়ে নিজের চোখের সামনে ঝুটের গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আমার হোসিয়ারী প্রতিষ্ঠানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আমার প্রায় ২৫/৩০ লাখ টাকার মেশিন পুড়ে যায়। এতে তিনি কাউকে দোষারোপ না করে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে শুধু এটুকু বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের পাশে ঝুটের গোডাউনটা না থাকলে হয়তো আজ আমার এতবড় ক্ষতি হতো না।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, উক্ত মাজার রোড এলাকায় অবস্থিত তিন তলা ভবনের পাশে থাকা খালী যায়গায় ঝুট এর গোডাউন ভাড়া দিয়ে রেখেছেন বাড়ীর মালিক মরহুম ফরিদ আহাম্মেদের ভাই বিপ্লব। এর পাশে রয়েছে আরেকটি ঝুটের গোডাউন। দুটি গোডাউনের মালিক মনির সহ ৩ জন। এসব গোডাউনের পার্শবর্তী কাউসার আহমেদ আপন সহ কয়েকজন দোকানীর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
তারা বলেন, এটি একটি আবাসিক এলাকা হওয়া সত্বেও ব্যাঙ্গের ছাতার মত অসংখ্য ঝুটের গোডাউন গড়ে উঠেছে এই এলাকায়। এ ব্যাপারে আমরা আগে ভয় না পেলেও গত মঙ্গলবার রাতে হৃদয়ের মালিকানাধীন ঝুটের গোডাউনে অগ্নিকান্ডের পর থেকে আমাদের দোকানের পাশে উপরোক্ত দু’টি ঝুটের গোডাউন থাকায় আমরা এখন চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি। কারণ, এসব গোডাউনে আগুন লাগলে আমরা সহ আশপাশে থাকা বাড়ী ঘরের মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, ব্যপক প্রানহানী ঘটারও আশংকা রয়েছে।
তবে গোডাউন মালিক মনিরের দাবী- পর্যাপ্ত আগুন নির্বাপনের ব্যবস্থা রেখেই তারা ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
অপরদিকে ঝুটের গোডাউন ভাড়া দেয়া জমির মালিক বিপ্লব বলেন, যেহেতু আগুন লাগার আশংকা রয়েছে সেহেতু আমি তাদেরকে(গোডাউন মালিক পক্ষ) আমার বাড়ি ছেড়ে দিতে বলবো।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ডল পাড়া ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক মো. শাহজাহান বলেন, উপরে আবাসিক ভবন আর নীচে ঝুটের গোডাউন, এটা আমাদের আইনে নাই। কারণ, নীচে আগুন লাগলে উপরে ধোঁয়া ছড়িয়ে দম বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আর যদি উপরে বা আশপাশের ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আরো ব্যাপক হারে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটবে।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে সচেতনতা মূলক কিছু দিক নির্দেশনা আমরা তাদের দিয়েছি। এসব নির্দেশনা তারা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে পরবর্তীতে ম্যাজিষ্ট্রেট সহ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি