ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : লাদাখে চীনা ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনায় বেইজিংকে দায়ী করেছে দিল্লি। সোমবারের ওই ঘটনা নিয়ে বুধবার ফোনে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। এ সময় তিনি বলেন, সেদিন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে চীনা বাহিনী। এর জেরেই দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু এতে কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় সেটি স্পষ্ট ছিল না। তবে বুধবার ওয়াং ই-এর কাছে সেই ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন জয়শংকর।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৬ জুন উচ্চপদস্থ মিলিটারি কমান্ডারদের বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা প্রশমন এবং সেনা সরানোর ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল দুই দেশ। সেই ঐক্যমতের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য গত সপ্তাহজুড়ে উভয় দেশের সামরিক বৈঠক হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে অর্থাৎ ভারতের দিকে গালওয়ান উপত্যকায় একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছিল চীনা বাহিনী। তা নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত।
তিনি বলেন, চীনা সেনাদের কর্মকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। এটিই সেদিনের সংঘর্ষের জন্য সরাসরি দায়ী।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অবস্থান পরিবর্তন না করা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে যেসব চুক্তি হয়েছিল, চীনা সেনাদের তা লঙ্ঘন করার উদ্দেশ্য পরিলক্ষিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৬ জুনের বৈঠকে উভয় দেশের সেনারা যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রটোকল মেনে চলার বিষয়ে একমত হয়েছিল। পাশাপাশি কঠোরভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা মেনে চলা এবং কোনও একতরফা কর্মকাণ্ড না চালানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ফোনালাপের পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যাবতীয় পরিস্থিতি দায়িত্বশীলভাবে সামলানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা। ৬ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষই সচেতনভাবে যাবতীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বিঘ্নিত করবে, কোনও পক্ষই এমন কোনও কাজ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১:৫৪পিএম/১৮/৬/২০২০ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি