

মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহ্র নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি আমার উম্মতের ওপর পথভ্রষ্ট ইমামদের হতে ভয় করি’। (সহীহ্ মুমীনে আবু দাউদ আলবানী- ৪২৫৩)। জিয়াদ ইবনে হুদাই বলেন, আমাকে হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, ইসলাম কি দ্বারা বিধ্বংস হয় জানো? আমি বললাম না। তিনি বললেন, ইসলাম ধ্বংস হয় আলেমদের পদস্খন এবং র্কুআন নিয়ে মোশরেকদের ঝগড়া ও ভ্রষ্ট ইমামদের ফতোয়া এবং হুকুম দ্বারা। দারেমী শাইখ আলবাণী (রহ্) সহীহ বলেন। শান্তি ও সামাজিকতার সজ্ঞায় বলা হয়েছে।
‘Peace is the result of & order whose foundation is truth, whom method & objective is justice whose driving force is love & whose method of attainment is freedom’.
দশান্তি বলতে সামাজিক সমন্বয় ও ঐক্যতান, মানুষে মানুষে প্রাপ্তির বন্ধন, ব্যক্তি জীবনে সন্তোষ এবং এক রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের যুদ্ধহীন সহাবস্থানকে বোঝায়। অনেক লোক অজ্ঞতার কারণে পীর, মুরশিদ, আউলিয়া, আম্বিয়ার প্রতি সীমাহীনভাবে ভক্তির। তাদের নাম ডাকা, তাদের নিকট সাহায্য সহযোগিতা প্রার্থনা করাসহ র্শিকের মাধ্যমে ইসলাম পূর্ব জাহিলী যুগের দ্বীনে ফিরে গেল।
তারা বলে, ‘তারা আল্লাহ্র নিকট আমাদের সুপারিশকারী’ (সূরা ইউনুস-১৮)।
আল্লাহ্ পাক তাঁর র্কোআনে বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো অনুনয়-বিনয় করে ও চুপিসারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পছন্দ করেন না সীমালংঘনকারীকে”। (সূরা আরাফ-৫৫), অন্য আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যা তোমার উপকার করতে না, অপকার করতে পারে না। কারণ, এরূপ করলে তুমি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভূক্ত হবে এবং “আল্লাহ্ই তোমাকে দুঃখ কষ্ট দিলে আল্লাহ্ ব্যতীত মোচনকারী কেউ নেই। তা আর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে মঙ্গল দান করেন। আল্লাহ্ একমাত্র ক্ষমাশীল ও মহাদয়ালু” (সূরা ইউনুস-১০৬-১০৭১)। গায়েব সম্পর্কে জানেন একমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন। গায়েব সম্পর্কে আমাদের নবী করিম (সাঃ) ও জানতেন না। আল্লাহ্ তাঁকে যেটুকু জানাতেন সেটুকুই তিনি বলতেন বা জানতেন। অথচ এখন কিছু ইমাম বলেন, পীরেরা গায়েব জানেন। মানুষের কর্মদোষেই পৃথিবীতে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তা আল কোরআনের নির্দেশনা। মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘যাহারাল ফালাদু ফিল্ বাররে ওয়াল বাহরে বেমা কাছাবাদ আইদিন্নাছ’ মানুষের কৃতকর্মের দরুনই জলে-স্থলে অশান্তি দেখা দেয় (সূরা আর-রুম-৪১)।
আল র্কোআন নাজিল হয়েছে আরবী ভাষাতে। কেননা আরবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাতৃভাষা এবং তাঁর চার পাশের মানুষের ভাষাও আরবী ভাষা। তাই তাঁদের বোঝার জন্য তাঁদের মাতৃভাষাতে আল কোরআন নাজিল হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য ঐশীগ্রন্থসহ সহিফা সমূহ ও স্ব-স্ব নবী রাসুলগণের মাতৃভাষায় নাজিল হয়েছে। যদি আল্লাহ্র কোন একটি ভাষাই প্রিয় হতেন, তবে সব ঐশীগ্রন্থসহ সহীকালামসহ একই ভাষাতেই নাজিল হতেন। সব ভাষাই আল্লাহ্র ভাষা এবং সব ভাষাই আল্লাহ্ জানেন, বোঝেন। আল্লাহ্র নবী জুম্আর সালাতের দিন খুৎবা দিতেন তাঁর মাতৃভাষা আরবীতে। যেহেতু তাঁদের মাতৃভাষা আরবী তাই। আর আজকে আমাদের অঞ্চলের ইমাম বা খতিবরা খুৎবা পাঠ করেন ভারতের লখ্নৌ হতে প্রকাশিত বিদেশী ভাষায়। আমাদের অঞ্চলের নামধারী আলেমরা বলেন, আমাদের নবী খুৎবা দিয়েছেন আরবী ভাষায়, তাই আমরাও আরবী ভাষাতে খুৎবা দিচ্ছেন। তারা যদি আমাদের নবী (সাঃ) কে এতোই ভালোবাসেন তবে কথাও বলুন আরবী ভাষাতে। কই তারাতো কথা বলেন তাদের মাতৃভাষাতেই। কিছু সংখ্যক নামধারী আলেমদের কারণেই আমজনতা আজ নানাবিধ সমস্যার মধ্যে হাবুডুবু খেতে বাধ্য হচ্ছেন। আমাদের অঞ্চলের ইমাম বা খতিবরা যে খুৎবা দেন তা বিদেশী ভাষাতে, যার অর্থ উপস্থিত মুসল্লিগণ কিছুই বোঝেন না। ক্ষুৎবার অর্থ, আদেশ, উপদেশ, নির্দেশ এবং বর্তমান অতীতসহ চলতি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা। আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসুল (সাঃ) কি বলেছেন তা খুৎবাতে আলোচিত হচ্ছে। অথচ তারা বিদেশী ভাষায় পাঠ করার জন্য মুসল্লিগণ কিছুই বোছেন না। এ জন্যই যতো সমস্যা বিরাজ করছে।
একজন মুসলিম কোনভাবেই অশিক্ষিত ও মুর্খ থাকতে পারে না। ইসলাম ধর্মের বিধি-বিধান সঠিকভাবে পালন করতে হলে তাকে শিক্ষিত, জ্ঞান চর্চার বিকাশ কিছু নেই। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, তবে কি তারা র্কোআন মনোযোগ দিয়ে বুঝে না? না তারা তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (সুরা মুহাম্মদ-২৪)। যারা ওসিলাকে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে আসছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন, নিশ্চয় খাঁটি আনুগত্য আল্লাহ্রই প্রাপ্য। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে আউলিয়া হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে আমরা তো এদের আনুগত্য করি এ জন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহ্র নিকটবর্তী করে দেবে। এরা নিজেদের মধ্যে যে ভিন্নমত পোষন করছে, আল্লাহ্ এদের বিচার করবেন। (সূরা যুমার-৩, সূরা তুর-২১, সুরা মুদ্দাসির-৩৮, সূরা হামিম-৩১, সূরা কাহফ-১১০, সুরা বাকারা-১০৭, সুরা তাওবী-১১৬, সুরা আরাফ-৩, সুরা ৬,৯,৩১, সুরা আনকাবুত-২২, সুরা মাজদা-৪)
‘অতএব, জেনে রাখো, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। ক্ষমা প্রার্থনা করো, তোমরা এবং মুমিন নর-নারীর ক্রটির জন্য’ (সুরা মুহাম্মদ-১৯)। আমাদের দেশে টাকার বিনিময়ে নানা পদ্ধতিতে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জনের মানসিকতায় প্রচলন করা খতম পড়া, অনুষ্ঠানে দ্বীন ইসলামের নামে আমাদের দেশে প্রচলিত মুলগত বেদআত।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, দ্বীনের মধ্যে কোন নতুন প্রথা প্রচলন করলে তা প্রত্যাখ্যান। ‘সহীহ্ বুখারী, সহীহ মুসলিম’। রাসুলল্লাহ্ (সাঃ) এর ওফাতের পর বিগত চৌদ্দ শতাব্দি যাবৎ যারা পৃথিবীর মুসলিম সমাজে বছরে দুদিন ঈদ পালিত হয়ে আসছে। অথচ ১৪শ বছর পরে শুধু আমাদের দেশে মহাধুমধামে ঈদে মিলাদুন্নবী নামে তৃতীয় একটি ঈদ চালু হয়েছে। অতএব ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা মানেই বিদ্আত। ইমাম গাজজালী (রহ্ঃ) বিদ্আতীদেরকে রুখে দেবতার কথা বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে জনগণকে আদেশ উপদেশ দেয়াই জুমার খুৎবার উদ্দেশ্য বিধায় এ খুৎবা জনগণের বোধগম্য ভাষায় তথা মাতৃভাষায় হওয়াই র্কোআনের নির্দেশনা। (সূরা ইব্রাহিম-৪, সুরা রুম-২২) আর যুক্তিসংগত তো বটেই। (অসমাপ্ত)
লেখক: মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
মোবাইল: ০১৭১০৮৮৩৪১৩
আপনার মতামত লিখুন :