দর্পন কবীর : নিউইয়র্কে কতিপয় সাংবাদিক টু-পাইস হাতানোর কাজে নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছেন। এমন দু-একজন আছেন-তাদের বলা হয়-পেইড সাংবাদিক। কারা বলেন? যারা তাদের মাসোয়ারা দেন, তারাই। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী আছেন-তারা পেইড সাংবাদিকদের পছন্দ করেন। তারা নগদ কিছু ডলার গুঁজে দিয়ে নিজের ছবি বা বিবৃতি প্রকাশ ও টিভিতে সম্প্রচারের চেষ্টা সব সময় করে থাকেন। ঢাকার কোন দৈনিক-এর প্রতিনিধি বা নিউজ এজেন্সীর প্রতিনিধি বা সম্পাদক (যিনি নিউইয়র্ক বাস করেন) ‘পেইড সাংবাদিক’ হিসাবে সমাদৃত ঐ সব নেতা কাম ব্যবসায়ীদের কাছে। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার সম্পাদক কাম নিউজ এজেন্সীর সম্পাদক এ কাজে সুনাম (কার্যত বদনাম) অর্জন করেছেন। তার কারিশমা হলো-সভা-সেমিনারে উপস্থিত না থাকলেও তার পছন্দের ব্যক্তিদের নাম উপস্থিত তালিকায় থাকবে এবং তাদের নামে ভাষণও থাকবে। এমন অনেক সংবাদ আছে, যেখানে বিএনপি নেতা আক্তার হোসেন বাদল এবং আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া চৌধুরীর নাম থাকবেই। ঐ সাংবাদিক এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নবাণে জর্জরীত হয়েছেন। তাতে কি? তিনি এ কাজ করেই যাচ্ছেন। গত সপ্তাহেও একটি সংবাদে জাকারিয়া চৌধুরীর নাম দিয়েছেন। অথচ ঐ অনুষ্ঠানে জাকারিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। সাংবাদিক সাহেব নিজের জীবনীতে লিখেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে লেখাপড়া করেছেন। অথচ সেটাও ভূয়া! তার আরেকটি পরিচয়ও ভূয়া বলে জানতে পেরেছি।
সে যাই হোক-আরো দু-এক টিভি সাংবাদিক নিউইয়র্কে টু-পাইস কামাচ্ছেন বলে জানতে পারছি। ব্রুকলিন এলাকায় বাস করেন-এমন একজন তো ডলার না দিলে অনুষ্ঠানেই আসেন না। তাকে নাকি ঢাকায় টিভির বড় বসকে অর্থ পাঠাতে হয়! যার নাম শুনছি-তিনি আসলেই অর্থ নেন কিনা-জানার চেষ্টা করছি। নিউইয়র্কের সাংবাদিক জগতটা কতিপয় অসৎ মিডিয়া কর্মী নষ্ট করছে। দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে।
লেখক : সাংবাদিক, লেখক ও গীতিকার
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৪:৩৫পিএম/৬/৩/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি