মোঃ শফিকুল ইসলাম আরজু, নারায়ণগঞ্জ : শহরের খানপুর এলাকায় ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দূর্বল হওয়ার কারনে দিনে দিনে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই অরক্ষিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারনে ভোর হতে মধ্য রাত পর্যন্ত অবাধে বিচরণ করে অপরাধী চক্র। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশন মেয়র, প্রেস ক্লাব সহ ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও কোন ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ বা ভূমিকা নেই বলে অনেকের অভিযোগ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত না থাকার কারনে হাসপাতালে অনেক অপরাধী চক্র অবাধে প্রবেশ করে করছে। চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও মাদকদ্রব্য বিক্রি। তাদের অত্যাচারে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রুগী ও রুগীকে দেখতে আসা লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। দিনে-রাতে এই অপরাধী চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে টাকা পয়সা, মোবাইল, স্বর্ণালংকার সহ মূল্যবান জিনিস পত্র।
এই অপরাধী চক্রটির বিরুদ্ধে এমনটাও অভিযোগ উঠে এসেছে যে তারা অনেক সময় রুগীদের ওয়ার্ড রুমে অবৈধ প্রবেশ করে ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায়। এ সকল অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেক সময় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান দিয়ে গেলেও কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার না হওয়ায় অপরাধী চক্র অবাধে হাসপাতালে যত্রতত্র প্রবেশ করে বীরদর্পে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম করে চলছে এমনটাই জানা যায়।
এ বিষয়ে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. এম.এ বাশার এর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই হাসপাতালে মাত্র তিনজন নিরস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছে। তাদের ৩ শিফটে ডিউটি ভাগ করা। প্রতি শিফটে একজন করে ডিউটি। হাসপাতালের যে পরিধি তা একজনের পক্ষে দৃষ্টি রাখা সম্ভব নয়। সেই সাথে তাদের হাতে কোন অস্ত্র না থাকায় অপরাধীরা প্রহরীকে ভয় না পেয়ে বরং উল্টো ভয় দেখায়। অপরাধীরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় একজন নিরাপত্তা রক্ষীর পক্ষে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব হয় উঠে না।
তিনি বলেন, হাসপাতালকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে হাসপাতালের অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবল চেয়েছি। তা ছাড়াও অপরাধীদের দমনে বহুবার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর মিটিংগুলোতে জানিয়েছি, কথা বলেছি। সেই সাথে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও যথাযথ প্রতিকার পাইনি। তবে আমরা আশাবাদী জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এদিকে হাসপাতালে আগত অনেকে এখন অপরাধীদের ভয়ে ভীত। এ সকল অপরাধীদের অচ্যাচারের হাত থেকে পরিত্রান পেতে মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপারসহ সকলের নিকট জোড়ালো দাবী জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি