• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

না.গঞ্জে যৌতুক লোভী সাজু ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গৃহবধূ জুঁই


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫, ১২:৩৩ AM / ৪০৮
না.গঞ্জে যৌতুক লোভী সাজু ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গৃহবধূ জুঁই

নিজস্ব সংবাদদাতা : ফতুল্লা থানাধীন দেওভোগ লিচু বাগানের সাইফুদ্দিন ওরফে মাদক ব্যবসায়ী জেডার ছেলে সাজ্জাত হোসেন সাজুর সাথে প্রায় চার বছর পূর্বে নন্দিপাড়ার থান ব্যবসায়ী জুয়েলের মেয়ে জুঁই আক্তারের বিয়ে হয়। কোন পুত্র সন্তান না থাকায় বেশ ঘটা করে মেয়ে জুঁইয়ের বিয়ে দেয় বাবা জুয়েল। বিয়ের কিছুদিন পরই জুঁইয়ের স্বামী সাজু ও তার পরিবারের লোকজনদের আসল চেহারা ফুটে উঠতে শুরু করে। সর্বশেষ গত একবছর যাবত সাজু এক কন্যা সন্তান সহ স্ত্রী জুঁইকে শ^শুরবাড়ি রেখে আসে। গত একবছরে সাজু তার স্ত্রীর তো খবর নেয়নি এমনকি তার পরিবারের লোকজনও কোনো যোগাযোগ করেনি, অন্যদিকে লোকমুখে জানা যায়, সাজু অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে গত চার মাস যাবত নিজেকে আড়াল করে রেখেছে।

জুঁইয়ের গত চার বছরের সংসার জীবনের যৌতুকলোভী স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনদের নানা অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে এই প্রতিবেদন। জুয়েল মিয়ার কোন পুত্র সন্তান নেই। দুই মেয়ের মধ্যে জুঁইকে দেওভোগ লিচুবাগানের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন ওরফে জেডার ছেলে সাজ্জাত হোসেন সাজুর কাছে ৪ লক্ষ টাকা কাবিনমূল্যে, প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকার ফার্নিচার, ৫ ভরি স্বর্ণ, জামাই পোষাক-আংটি ও মোবাইল বাবদ নগদ আশি হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ১২-১৩ লক্ষ টাকা খরচ করে বিয়ে দেয়। বিয়ের কিছুদিন পরই সাজুর বাবা বিয়াই জুয়েলকে চাপ দেয় ঘরে তুলে দেওয়ার জন্য। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করে জুয়েল মিয়া ঘর তুলে দেয়। স্বামী বেকার থাকার কারণে, মেয়ের সুখের চিন্তা করে সাজুকে আটত্রিশ লাখ টাকার পুঁজি দিয়ে থান কাপড়ের ব্যবসা দিয়ে দেয়। ব্যবসা দেওয়ার পর থেকে সাজু ও তার পরিবারের আসল চেহারা জুঁইয়ের কাছে ফুঁটে উঠে। কারণে-অকারণে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে।

জুঁই এরই মধ্যে গর্ভবতী হয়ে পড়লে সাজুর বোন রিপা, সাজুর মা নাসিমা বেগম ও সাজুর বাবা সাইফুদ্দিন ওরফে জেডা নানাভাবে অত্যাচার শুরু করে। বোন রিপা কথা কাটাকাটি করে ভাইয়ের গর্ভবথী স্ত্রীকে মারধর করে। যার কারণে গর্ভের সন্তানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে জুঁইয়ের গর্ভপাত ঘটানো হলো। নবজাতক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়লে, তার চিকিৎসার খরচ ৫ লক্ষ টাকা জুঁইয়ের বাবা জুয়েল পরিশোধ করে। সাজুর পরিবারের লোকজন কারণে-অকারণে জুঁইয়ের সাথে অমানবিক আচরণ শুরু করে। সাজুও ব্যবসার টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে ইচ্ছামতো খরচ করে ব্যবসার মূলধন আত্মসাৎ করে। সাজু ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জুঁই নারী-শিশু নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করে। তখন রিপার স্বামী রবিন সামাজিকভাবে সকল সমস্যার সমাধানের কথা বলে অনেক অনুরোধ করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে অনুরোধ করতে থাকে। জুয়েল মিয়া মেয়ে জুঁইয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে রবিনের কথায় বিশ^াস করে মামলাটি তুলে নেয়।

মামলা তুলে নেওয়ার পর কিছুদিন ভালো থাকলেও গত প্রায় ২১ মাস পূর্বে জুঁই আরেকটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয়। নাম আইমান ইসলাম। মেয়ে হওয়ার কিছুদিন পর সাজু ও তার পরিবার পূর্বের রূপে ফিরে যায় এবং জুঁইকে নানাভাবে অত্যাচার করতে থাকে। রিপার স্বামী রবিন যে কথা দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল সেও শ^শুরবাড়ির পক্ষ নেয়। সাজুকে দোকানের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে কোন কর্ণপাত না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করে গত এক বছর আগে কন্যা আইমান ইসলাম সহ স্ত্রী জুঁইকে শ^শুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে জানা যায়, জুঁইকে বিয়ে করার পর সাজু অন্য একটি মেয়ের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে ঐ মেয়েকে বিয়ে করেছে। গত চার মাস যাবত এলাকা ছেড়ে দিয়ে সাজু অন্যত্র বসবাস করছে বলে জুঁইয়ের পরিবার জানতে পারে। জুঁইয়ের পরিবারে টাকা-পয়সা নিয়ে সাজু আজ অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত, তার বাবা জেডা হিসেবে পরিচিত এইজন্য যে, সে একসময় মাদক ব্যবসা করতো বলে লিচুবাগ এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। জুয়েল মেয়ের সুখের জন্য জামাই তার পরিবারের কথামতো যখন যা দাবি করেছে তা পূর্ণ করেও মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিনানিপাত করছে। সাজু ও তার পরিবারের এহেনকর্মকা-ে অতিষ্ঠ হয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জুঁইয়ের বাবার একমাত্র দাবি সাজু সহ তার পরিবারের অন্যান্যদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।