ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ থেকে: নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন? এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। চলছে জল্পনা ও কল্পনা। সমর্থকরা ফেসবুকে তাদের পছন্দের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নামে প্রচার ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির প্রতিক ধানের শীষ-এর প্রার্থী যেন হয় সৎ, দক্ষ, কর্মী বান্ধব এমনটাই প্রত্যাশা করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুই জন জনপ্রিয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান জোহা এবং খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও নওগা জেলা বিএনপির সহসভাপতি খাজা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী। তবে তাদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী পত্নীতলা উপজেলার খিরশিন গ্রামের কৃতি সন্তান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, এক সময়ের তুখড় ছাত্র নেতা ও ১/১১ এর নির্যাতিত নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা ও অসহায় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মীসহ সকল ধর্মের মানুষদের মনের আসনেও নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। নির্বাচনী এলাকা জুড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাটিতে তৃণমূল সমর্থিত ও জনপ্রিয় নেতাকেই দল মনোনয়ন দিবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা দিবর ইউপির সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান শেখ। তিনি জানান, দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ধানের শীষ প্রতিকেই সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোট দিবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শক্তিশালী নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন আগামীতে সারা বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হবে বলেও আশা করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে যদি সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর যদি নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় ভাবে দলের মনোনয়ন দেন। তাহলে, তিনি শতভাগ নিশ্চিত যে, নির্বাচনে জয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, এলাকায় সার্বিক ইমেজ ও যোগ্য জনপ্রিয় তৃনমূল সমর্থিত ব্যক্তিকেই মনোনীত করবে দল। যাতে দলের বিজয় সুনিশ্চিত হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) নির্বাচনী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে অন্যতম খাজা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী। ১শ জন বিএনপি দলীয় কর্মির মধ্যে জরিপ চালিয়ে জানা যায় যে, বর্তমানে সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতার তালিকায় প্রথম স্ সার্বিক বিষয়ে খাজা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি'র নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড নিশ্চয় সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত ও তারুণ্য নির্ভর ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই এলাকার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ঘরে ঘরে গিয়ে দলের জন্য কাজ করে চলছেন আজও অবধি। চেষ্টা করেছি নেতাকর্মীসহ সর্ব সাধারণের পাশে দাঁড়াবার জন্য। তুলে ধরেছি বিএনপির উন্নয়নের চিত্র। মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে শতভাগ আস্থা রেখে নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী আরো বলেন, দল ধানের শীষ প্রতিক বিজয়ে যাকেই যোগ্য প্রার্থী মনে করবেন, তাকেই বিজয়ী করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। বিশ্বস্ত ও দলীয় নির্ভরযোগ্য একাধিক সুত্র মতে জানা যায়, সাবেক সংসদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, হামলা স্বীকার ও ঋণ খেলাপি থাকায় ব্যক্তি ইমেজ ম্লান হয়েছে তাহার। এছাড়া নির্বাচন কমিশন তফসিলে উল্লেখ রয়েছে, ঋণ খেলাপী ও দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তাছাড়া, স্থানীয় বিএনপি পন্থী অধিকাংশ চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরাও ওই সাবেক সাংসদের বিরোধীতা করে আসছেন এবং নানা অনিয়ম ও অভিযোগ দিচ্ছেন। এমতাবস্থায়, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন- ২০১৮ উপলক্ষে নির্বাচনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকারও শেষ হয়েছে। বর্তমানে নমিনেশন কার্ড ঘোষণা ও পাবার পালা। এলাকাবাসী ও নেতা-কর্মিরা এখন অপেক্ষায় আছেন। তবুও কে পাবেন মনোনয়ন? তবে, নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরীর সমর্থক গোষ্ঠীর নেতা-কর্মিদের দাবি- "সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত, নির্ভেজাল ও আদর্শবান চরিত্রের তরুণ নেতা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরী। এবার নির্বাচনে তাহার বিকল্প প্রার্থী নেই বলেও দাবি করেন।" তারা আরো জোর দাবি ও আবেগ প্রকাশ করে জানান, নওগাঁ-২ আসনের জনগণ এখন খাজা নাজিবুল্লাহ্ চৌধুরীর অপেক্ষায় আছেন। অপরদিকে, সাবেক এমপি জোহা সাহেবের ভক্ত ও সমর্থকরা দাবি করেন, সামসুজ্জোহা খান পাবেন আবারো ধানের শীষের মনোনয়ন। পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ জানান, তিন তিন বারের নির্বাচিত সাংসদ সামসুজ্জোহা খান। তিনি মনোনয়ন পেলে এবার বিপুল ভোটে জয়ী হবেন যদি সুষ্ঠ ভাবে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পত্নীতলা উপজেলার মাটিন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক বলেন, জোহা ভাইয়ের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান জানান, আমি নির্যাতনেরর স্বীকার। প্রতিহিংসা ও নানা রকম মিথ্যা মামলার স্বীকার। ধামইরহাট ও পত্নীতলার জনগণ আমাকে কতটুকু ভালবাসেন তা আমাকে মনোনয়ন দিলে ভোটের মাধ্যমেই প্রমাণ পাওয়া সম্ভব। তবে, তিনি মনোনয়ন বিষয়ে শতভাগ আশাবাদি বলে মত প্রকাশে ব্যক্ত করেন।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১০:৫২এএম/২৬/১১/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি