ইয়ামীন আজমান চৌধুরী : এক সাথে সব সেক্টরে বা সকল অপরাধীর বিচারে হাত দিলে সমস্যা, বিগত দিনের সরকারের সব ভালো অর্জনেও পতন ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এ দেশের মানুষ ভুলে যাবে সরকারের সমস্ত ভালো অর্জন। সরকারের বিরূদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হবে এ দেশের জনগণ।
দূর্নীতির সাথে যেহেতু বিপুল জনগোষ্ঠী জড়িত, তাই সরকারের বিরূদ্ধে এরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলবে। শুধুমাত্র কোনো উপায়ে চালের মূল্য দশ টাকা বৃদ্ধি করতে পারলেই এ দেশের মানুষ সরকারের সমস্ত ভালো কাজের কথা ভুলে অপপ্রচারে লিপ্ত হবে।
আমি মনে করি গোপন অশুভ শক্তি'র দ্বারা চালের মূল্য কেজি প্রতি চল্লিশ টাকা বৃদ্ধি করাও অসম্ভব কিছুনা।
ঢাক ঢোল পিটিয়ে দূর্নীতি দমন হয় না। সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে চুপ করে বসে থাকতে পারছিনা। যুবলীগের চিহ্নিত কজনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর শক্ত অবস্থানের বিপরীতে বা সুযোগে গভীর ষড়যন্ত্রের পরিস্কার লক্ষণ আমি পাচ্ছি। দুটি ক্লাব দিয়ে অভিযান শুরু হলেও এখন ঢালাও ভাবে সব কটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে অস্থিরতা তৈরী করা হচ্ছে। ক্যাসিনো সরঞ্জামাদি কোন প্রতিস্টানের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে, তা খুজতে গিয়ে বিশটি আমদানি কারক প্রতিস্টানের সম্পৃক্ততা খুজে বের করা হয়েছে।। এই পর্যন্ত মেনে নিলাম। আজ একটি সংবাদে পরিস্কার বোঝা যায়, ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই বিষয়ে আসছি। গত পাচ বছরে বিআরটিএতে নিবন্ধিত বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য চেয়েছে দুদক।এর মানে কি, সকলকে অস্থির করবার একটি পায়তারা চলছে। উদ্দেশ্য সরকারের পতন নিশ্চিত করা। যা ঘটেছিলো ফখরুদ্দীন সাহেবের বেলাতে। তারা ভুল করেছিলো সকল সেক্টরে একত্রে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে। আর এখন কৌশলে সরকারকে দিয়ে ভুল করানোর চেস্টা চলছে। গোপন অপশক্তি আছে, এরা না বিএনপি না আওয়ামী লীগ, না জামাত। বাবার বাবা আছে, তারও বাবা আছে, অপশক্তিকে খাটো করে দেখবার সুযোগ নেই। আজ শুধুমাত্র ট্রাক মালিক শ্রমীকদের হাত করতে পারলেই চালের মূল্য দ্বিগুণ করা সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষ তখন সরকারকে সময় বা সুযোগ কোনোটাই দিবে না।
তবে সম্ভব, দূর্নীতি দমন অসম্ভব হবে না যদি সুশাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুটোকে সমান তালে এগিয়ে নেয়া যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ। রাতারাতি দমন করতে চাওয়াটাই অন্যায়। কেনো অন্যায় সেই আলোচনাতে যাবো। হয়তো এই লেখাটির কারনে আমি দলের নিকট নন্দিত বা নিন্দিত হবো। তবে এর কোনোটাই আমার উদ্দেশ্য না। আমার উদ্দেশ্য আওয়ামিলীগ যেনো এই বাংলায় টিকে থাকে, এই সরকার যেনো টিকে থাকে। কারন দ্বিতীয় কোনো দল নেই যে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো রকম সুযোগ দেয়ার সুযোগ নাই।
ববঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি যখন তিনি দূর্নীতির বিরূদ্ধে কঠোর হয়েছিলেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হারিয়ে দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চাই না। আমরা দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ চাই, শোষন মুক্ত বাংলাদেশ চাই, সকলের জন্য খাদ্য বাসস্থান চিকিৎসার নিশ্চয়তা চাই, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সব চাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই পূরন হওয়া সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কে দিয়েই। অনেকবার প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেস্টা করা হয়েছে, অনেকবার আওয়ামী লীগের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সব দূর্নীতি রাতারাতি নির্মূল করতে চাইলে ষড়যন্ত্রের ঝুঁকি অনেক বেশী। কেনো সেই ঝুঁকি আমরা নেবো।
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রয়োজন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে প্রয়োজন। দলের ভেতর আগাছা মুক্ত করতে সাড়াশি অভিযান আমি সমর্থন করি। রাস্ট্রের আগাছা মুক্ত করা সরকার প্রধানের একার দায়িত্ব না। প্রতিটি সংস্থা সঠিক ভাবে কাজ করছে কিনা, সব মন্ত্রণালয় সঠিক ভাবে কাজ না করলে অযোগ্যদের সরিয়ে দেয়াকে রাস্ট্রীয় দূর্নীতি দমনে সঠিক পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি।
আমার গৃহকে আমি আগাছা মুক্ত করবো, এটা আমার সিদ্ধান্ত। কিন্তু রাস্ট্র আগাছা মুক্ত করতে গিয়ে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিলে সেটা বিবেচনাতে আনতে হবে। প্রয়োজনীয় বৃক্ষ রোপন করলে অপ্রয়োজনীয় আগাছা এমনিতেই কমে আসবে। প্রতিটি অফিস, মন্ত্রণালয়, সংস্থা গুলোতে যোগ্য এবং সাহসী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। তারপরেও দূর্নীতি নির্মূল না হলে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে চেস্টা অব্যাহত রাখা সরকার প্রধানের দায়িত্ব। সরকার দূর্নীতি নির্মূল করতে বাধ্য না।
মনোযোগ দিতে হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও। মনোযোগ দিতে হবে শিক্ষায়। দেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় মনোযোগ দিতে হবে, মানুষের অমানুষিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে।
আমি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে দূর্নীতি দমনে বিরোধিতা করছি। সুশাসন আসবে যোগ্য সাহসী মানুষদের মূল্যায়ন ও নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে।
দূর্নীতি দমনকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক সৃস্টি করবার কোনো নিয়ম নেই। ষড়যন্ত্রকারিরা সেই চেস্টাই করছে। সরকারের বিরূদ্ধে গোপন সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আদর্শ বাস্তবায়নে আমাদের শেষ আশ্রয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেষ আশ্রয়ের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমাদেরকে ধৈর্য ধারন করতে হবে। তারাহুরো করে সব হারাবার আশঙ্কায় আমি এর বিরূদ্ধে।
যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা, নজরদারি বৃদ্ধি করা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় মনোযোগি হওয়া, চিহ্নিত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা, এগুলো হোক দূর্নীতি দমনে আমাদের প্রধান হাতিয়ার।
সমীক্ষা করে দেখুন ইমানদারের সংখ্যা বেশী নাকি বেইমানের সংখ্যা বেশী। অশুভ শক্তি যদি সিন্ডিকেট করে শুধুমাত্র খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে, এ দেশের মানুষ সরকারের বিরূদ্ধে বেইমানী কথাবার্তা শুরু করে দিবে। সুতরাং এ দেশকে রাতারাতি দূর্নীতি মুক্ত করবার পরামর্শ যারা দিচ্ছে তারা প্রধানমন্ত্রীর বিরূদ্ধে, সরকারের বিরূদ্ধে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
আমি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যকরি কমিটির একজন সদস্য। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চেস্টা করছেন। কিন্তু দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তিনি বাধ্য নন। সুশাসন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, এবং উন্নয়নের সাথে জড়িত। এতে সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সকলের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দূর্নীতি দমনে অগ্রসর হতে হবে।
এখোনও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে যুদ্ধ শেষ হয়নি। দেশে এখোনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। ভেতরে ভেতরে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ছোবল দিতে প্রস্তুত। সুতরাং ধৈর্য এবং কৌশলী হতে হবে।
জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু।
ইয়ামীন চৌধুরী
সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:৩০পিএম/২৭/৯/২০১৯ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি