• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

থাইল্যান্ডের গুহায় উদ্ধার অভিযানের নায়ক কারা?


প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০১৮, ১২:৩৬ PM / ১২৫
থাইল্যান্ডের গুহায় উদ্ধার অভিযানের নায়ক কারা?

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : গত ২৩ জুন ১২ জন কিশোর ফুটবলার ও তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের থাম লুয়াং গুহায় আটকা পড়ে। এরপর তাদের উদ্ধারে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান শুরু করে থাইল্যান্ড সরকার। প্রথমে নিজেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি ও ঝুঁকি বাড়তে থাকে। একে একে এ অভিযানে যোগ দেয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারেরও বেশি বিশেষজ্ঞ ডুবুরি ও ডাক্তার।

নিখোঁজের ৯ দিন পর গত ২ জুলাই রাতে দুজন ব্রিটিশ ডুবুরি সর্বপ্রথম তাদেরকে গুহার ৪ কিলোমিটার ভেতরে খুঁজে পান। কিশোরদের কাছে পৌঁছাতে ওই দুজনের সময় লেগেছে ৬ ঘণ্টার মতো। এরপর থেকে ডুবুরিরা নিয়মিত কিশোরদের কাছে যাতায়াত শুরু করেন। তাদের খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দেন।

গত ৮ জুলাই রবিবার কিশোরদেরকে গুহা থেকে বের করে আনার চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়। চূড়ান্ত এ অভিযানে অংশ নেন ১৩ জন বিশেষজ্ঞ অন্তর্জাতিক ডুবুরি ও পাঁচজন থাই নেভি সিল সদস্য। কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরা কারা? সবার সম্পর্কে জানা না গেলেও কয়েকজনের ব্যাপারে জানা গেছে।

প্রধান কমান্ডার নারোংসাক ওসোটানাকোর্ন, তিনি এ অভিযানে অংশ নেওয়া একজন উচ্চ প্রশিক্ষিত ডাইভার। তার নাম বেন রেইমেনান্টস। কিশোরদেরকে গভীর গুহা থেকে যারা বের করে এনেছেন, তিনি তাদের মধ্যে একজন।

বেলজিয়ামের নাগরিক বেন থাইল্যান্ডের ফুকেটে একটি সাঁতার সরঞ্জামের দোকান ও সাঁতার স্কুল পরিচালনা করেন।

কিশোরদেরকে গুহা থেকে বের করে আনার চূড়ান্ত অভিযানে অংশ নেওয়া আরেকজন সম্পর্কে জানা গেছে। তিনি হচ্ছেন ডেনমার্কের নাগরিক ক্লাউস রাসমুসেন। রাসমুসেন ও রেইমেনান্টস ফুকেটে একই সাঁতার স্কুলের প্রশিক্ষক। নিচের ছবিটি তার প্রশিক্ষণের একটি ছবি। এটি কিন্তু থাইল্যান্ডের গুহার উদ্ধার অভিযানের ছবি নয়।

রিচার্ড স্ট্যান্টন (বামে) এবং জন ভোলান্থেন (ডানে)। এ দুজন ব্রিটিশ ডুবুরিই গুহার ভেতরে কিশোরদের প্রথম খুঁজে পান।

এই সেই অষ্ট্রেলীয় ডাক্তার, যিনি গুহার ভেতরে গিয়ে কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছিলেন। সবচেয়ে দুর্বল কিশোরদের আগে উদ্ধারের পরমর্শও তারই ছিল। তার নাম রিচার্ড হ্যারিস। কয়েক দশকের ডাইভিং অভিজ্ঞতা আছে তার। একই সঙ্গে তিনি একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞও। ধারণা করা হচ্ছে, যে দুজন ব্রিটিশ ডাইভার গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের প্রথম খুঁজে পান, তাদের অনুরোধেই রিচার্ডকে এ উদ্ধার অভিযানে সম্পৃক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, এ উদ্ধার অভিযানটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরিদের জন্যও এটা ভয়ঙ্কর। কিন্তু এ অভিযানে অংশ নেওয়া ডুবুরিরা সব ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা এড়িয়ে এখন পর্যন্ত ৮ কিশোরকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অাজ ১০ জুলাই বাকি পাঁচজনকেও উদ্ধার করবেন তারা। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ এ ডুবুরিদেরকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে এবং তাদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা প্রকাশ করছে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:৩২পিএম/১০/৭/২০১৮ইং)