• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন

তোয়াক্কা নেই ইউজিসির নির্দেশনার: জাবিতে ভর্তি ফরমের মূল্য আবারও বাড়ল


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৮, ২০১৯, ১:৩৮ PM / ১৩৮
তোয়াক্কা নেই ইউজিসির নির্দেশনার: জাবিতে ভর্তি ফরমের মূল্য আবারও বাড়ল

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০১৯-২০ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে। ছয়টি অনুষদ ও তিনটি ইন্সটিটিউটের অধীনে ১০টি ইউনিটে ভর্তির আবেদন চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নানা সমালোচনার মুখে আবারও বাড়ানো হয়েছে ভর্তি ফরমের মূল্য। এ নিয়ে ৮ বছরে ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে ৭২ শতাংশ।
ইউজিসির নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফরমের মূল্য বাড়ানো হলেও চোখ বুজে এ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে পকটস্থ করছেন শিক্ষকরা। ফরমের মূল্য বাড়ানো ও শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদনের টাকা ভাগবাটোয়ারার টানা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার তথ্য মতে, এ বছর এ, বি, সি, ডি, এবং ই ইউনিটের ভর্তির ফরমের মূল্য গত বছরের চেয়ে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া সি১, এফ, জি, এইচ এবং আই ইউনিটের ফরমের মূল্যও ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১১-১২ সেশনে এ, বি, সি এবং ডি ইউনিটের ভর্তি ফরমের মূল্য ছিল ৩৫০ টাকা। ক্রমান্বয়ে ২০১৫-১৬ সেশনে ৫২৫ এবং ২০১৬-১৭ সেশনে ৫৫০ টাকা তথা প্রতিবছর ফরমের মূল্য ২৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হলেও এবার বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫০ টাকা। ফলে বিগত ৮ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমের মূল্য বাড়ানো হয়েছে ৭২ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক ভর্তির ফরম বিক্রি বাবদ আয়ের শতকরা ৪০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভর্তি পরীক্ষার খরচ বাদে সমুদয় অর্থ শিক্ষকরা ভাগ করে নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ সেশনে ভর্তির ফরম বিক্রি বাবদ এই বিশ্ববিদ্যালয় আয় করে ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ভর্তির যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে এ খাতে অবশিষ্ট থাকে ৯ কোটি টাকা। অবশিষ্ট এ টাকা ভর্তি পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা পারিশ্রমিক বা সম্মানী হিসেবে পকেটস্থ করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে ভিসি তিন লাখ, প্রোভিসিদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, সব অনুষদের ডিন ও ইন্সটিটিউটের প্রধান পেয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। আর ভর্তি পরীক্ষায় যেসব শিক্ষক ডিউটি বা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটিতে যেসব কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন, তারাও পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির ভেতরে ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির সঙ্গে দেখা করে। এ সময় ভিসি মূল্য কমানো যায় কি না সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

প্রতিবছর ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করা অমানবিক আখ্যা দিয়ে ১২টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত প্লাটফর্ম ‘জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট’-এর সভাপতি আশিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ফরমের মূল্য বৃদ্ধিতে ভর্তিচ্ছু দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংকটে পড়ে। এই টাকা শিক্ষকদের ভাগবাটোয়ারা একদিকে যেমন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শোষণ করে, অন্যদিকে শিক্ষকদের ভোগবিলাস হচ্ছে। ইউজিসির নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফরমের টাকা ভাগবাটোয়ারা শিক্ষকদের নৈতিকতার স্খলন হিসেবেই দেখি।

সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের সদস্য ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস যুগান্তরকে বলেন, গণহারে সবার জন্য ভর্তি ফরমের মূল্য বাড়ানো উচিত নয়। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে সত্যি; কিন্তু সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’বেলা খাওয়ার টাকা থাকে না- এমন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়। পরীক্ষায় ডিউটি দিয়ে ‘চমকপ্রদ’ অঙ্কের টাকা আমরা নিচ্ছি। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, আগেকার তুলনায় আমাদের বেতন বেড়েছে। ফলে ভর্তিচ্ছু অভিভাবকের পকেট কেটে টাকা রোজগার করা শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক নয়। তাছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের বিষয়ে যথেষ্ট অস্বচ্ছতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এ বছরের বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ফরমের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত বছরই ভর্তির ফরম থেকে ৯ কোটি উদ্বৃত্ত ছিল; কিন্তু এবার আবার কেন দাম বাড়ানো হল- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি নিয়ম চালু হলে তা বন্ধ করা যে কোনো প্রশাসনের পক্ষে কষ্টকর। তাছাড়া প্রতিবছর শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোরও একটা চাপ থাকে।

সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষা হলে এমন চিত্র দূর করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম। তিনি বলেন, ফরমের মূল্য বৃদ্ধি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা না দিলে ইউজিসির পদক্ষেপ কী- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পত্রপত্রিকা থেকে এমন কোনো তথ্য জানলে ইউজিসি সিদ্ধান্ত নেবে। ইউজিসির চেয়ারম্যান এবং জাবি ভিসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১:৩৯পিএম/৮/৮/২০১৯ইং)