করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা হেলায় উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
মাস্ক না-পরেই পলিটব্যুরোর সদস্যদের সঙ্গে শনিবার দিব্যি বৈঠক সারলেন কিম। উত্তরের কর্মকর্তাদের মুখেও ছিল না মাস্ক।
অন্যদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেয়া মার্কিন চিকিৎসক অ্যান্টনি ফাউসিকে বরখাস্তের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। করোনা প্রতিরোধে ফেব্রুয়ারিতেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এ গণস্বাস্থ্য উপদেষ্টা। খবর সিএনএন ও এএফপি।
করোনা প্রতিরোধের উপায় বের করতে সেনা কর্মকর্তা ও পার্টির শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে রোববার নিজের প্রাসাদে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন কিম। এই সংক্রান্ত ছবি উত্তর কোরিয়ার সরকারি রডং সিনমুন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তা ভাইরাল হয়েছে টুইটারে।
সেখানে দেখা গেছে, কারও মুখে মাস্ক নেই, নেই গ্লাভসও। ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে চেয়ারম্যান কিম সভাপতিত্ব করেন। বিশাল গোলটেবিলের চারপাশে সেনাকর্তা, মন্ত্রীরা দু-ফুটের কম দূরত্বে বসেন। অথচ কেউ মাস্ক পরেননি।
নিজেরা করোনাবিধি না-মানলেও প্রথমবারের মতো ওই বৈঠকে করোনার বিস্তার ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিম। এর আগে পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়া করোনা সংক্রমণমুক্ত।
এবার কোরীয় সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বলছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের বিস্তার মানবজাতির জন্য বড় বিপর্যয়। পিয়ংইয়ং মহামারী পরিস্থিতির বিরুদ্ধে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রেখেছে। কিন্তু করোনার বিস্তারের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি আমাদের লড়াই ও উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কেসিএনএ বলছে, উত্তর কোরিয়ার জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নিতে যৌথ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ওই বৈঠকে করোনা রুখতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা, নজরদারি জোরদার করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় গতবারের চেয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণাও এসেছে বৈঠকে। উত্তর কোরিয়ার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ওই বৈঠকে কিম তার বোন কিম ইয়ো জংকে পলিটব্যুরোর ফার্স্ট ভাইস ডিপার্টমেন্ট ডিরেকটর পদে বসিয়েছেন।
ধারণা করা হয়, গত বছর ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ইয়ো জংকে ওই পদ থেকে সরিয়েছিলেন উত্তরের প্রেসিডেন্ট।
এর আগে ইয়ো জং কিমের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, পিয়ংইয়ং করোনার প্রাদুর্ভাব লুকাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ায় ৭০০ জনকে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা সন্দেহে প্রায় ৫০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে ৮ এপ্রিল জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এদিকে, করোনা নিয়ে সতর্ক করা মার্কিন চিকিৎসক ফউসিকে বরখাস্তের হুশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৯৮৪ সাল থেকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এলার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক এবং সম্প্রতি করোনার টাস্কফোর্সে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন ফাউসি।
তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্প ও তার কর্মকর্তাদের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন; কিন্তু তা পাত্তা দেননি ট্রাম্প। রোববার সিএনএনকে ফাউসি বলেন, আমি বহুবার সতর্ক করেছিলাম।
এটি হুশিয়ারি হিসেবে গ্রহণ করলে আজকের এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক দূরত্ব, শারীরিক দূরত্ব এবং বাড়িতে অবস্থানের নীতি মার্চের মাঝামাঝির পরিবর্তে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মানা হলে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যেত।
এ ধরনের মন্তব্যের পর ফাউসিকে বরখাস্তের হুশিয়ারি দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ছয় লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ১১৫ জনের।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/০৩:০৭পিএম/১৪/৪/২০২০ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি