
ঢাকারনিউজ২৪.কম:
এক সময় রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে ব্যাপক হারে বিভিন্ন জাতের গমচাষের প্রচলন ছিল। কৃষকরা গমের চাষ করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলন ও ভালো দাম পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতেন। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ফলন কম হওয়াসহ নানাবিধ কারণে গমের চাষ একেবারে কমে এসেছে। তাছাড়া রবি মৌসুমে হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানসহ অন্য ফসলের নতুন নতুন জাতের কাছে অনেকটা হারিয়ে যায় গমের আবাদ।
এ অবস্থায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে আহসান-উল-হক বাবু এক বিশেষ পদ্ধতিতে এ বছর বারি ২৯ জাতের গমচাষের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেছেন। আহসান-উল-হক বাবু জানান, ‘রেইজ্ড বেড ফারো অ্যান্ড টুইন প্লান্টেশন` পদ্ধতির উদ্ভাবকের নাম কাটাইমা। জাপানি ওই শস্য বিজ্ঞানী ১৯৫১ সালের পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন। চাষাবাদের এ পদ্ধতি উদ্ভাবনকালে তিনি ধানের একটি চারা জমিতে লাগানোর পর ৮৪টি শাখা পান। ফলনও পাওয়া যায় আশাতীত। ধান ও গম একই অর্থাৎ গ্রাস ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত। তাই গম চাষেও এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।
বিলুপ্তপ্রায় গমের চাষ ফিরিয়ে আনতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আহসান-উল-হক বাবু। প্রচলিত নিয়মের বাইরে ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ পদ্ধতিতে ওই গমের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।
প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৪ মণ করে গমের ফলন পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই গ্রামে স্থাপিত তার `রেইজ্ড বেড ফারো অ্যান্ড টুইন প্লান্টেশন` পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক গমচাষ পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হান্নান। তিনি নতুন পদ্ধতিতে গমের চাষাবাদ দেখে মুগ্ধ হন এবং এর উদ্যোক্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে সম্পূর্ণ জৈব কৃষি প্রযুক্তিতে ও স্বল্প খরচে অধিক ফলনের বিষয়টি গম আবাদে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এনএম /০৩.১৫ পিএম/২৯/৩/২০১৭ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি