জাবি সংবাদদাতা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল থেকে উদ্ধারকৃত সেই নবজাতকটি হাসপাতালে মারা গেছে।
গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ৪২৬ নম্বর কক্ষ থেকে ট্রাঙ্কবন্দী একটি নবজাতক জীবিত উদ্ধার করে হল প্রশাসন। রাত দশটার দিকে সাভার এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকটি মারা যায়।
নবজাতকের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক ছাত্রী এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হলের শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রীর রুমমেট ও আশেপাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা তার প্রসব বেদনার কথা জানতে পারে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে জানালে নার্স এসে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজে নিতে বলেন।
কিন্তু, এর আগেই সন্তান ভূমিষ্ট হলে, কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করে রাখেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে এনাম মেডিকেলে নেয়ার পর তার কক্ষে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পায় অন্য শিক্ষার্থীরা।
খোঁজাখুজি করে কক্ষে থাকা ট্রাঙ্ক থেকে তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। পরে নবজাতককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এনাম মেডিকেল পাঠান।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ‘অবহেলার কারণেই নবজাতকটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেগন্যান্সির সময় যেভাবে কেয়ার নেয়ার দরকার ছিল তার কিছুই করা হয়নি। এছাড়া প্রসবের পর ট্রাঙ্কবন্দী করে রেখেছে। এসব কারণেই হয়ত বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।'
নবজাতক ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় অপরাধ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য গোপন করাটা অপরাধ। অনেক বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। এই ঘটনা তদন্তে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক লাবিবা খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৯:২০এএম/১৭/৩/২০১৯ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি