ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : বাড়িতে বা অফিসে ঢোকা, ট্রেনের টিকেটের জন্য কার্ড ব্যবহার করতে দেখা যায় অনেককেই। কিন্তু এবার সে যুগেরও বুঝি অবসান হতে চলেছে। সুইডেনে হাজার হাজার মানুষ তাদের হাতের চামড়ার নিচে ইলেকট্রনিক চিপ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যা মূলত তাদের বাড়িতে ঢোকার চাবি, অফিসের আইডি কার্ড এমনকি ট্রেনের টিকেটও।
এ প্রযুক্তি দ্রুত প্রসার লাভ করবে বলে অনেকের অভিমত। যদিও এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এরকমই হবে, অর্থাৎ মানুষের শরীর আর নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি এভাবেই মিলে-মিশে একাকার হয়ে যাবে।
সুইডেনে প্রায় চার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করে তাদের শরীরের চামড়ার নিচে মাইক্রোচিপ লাগিয়েছেন। এরিক তাদের মধ্যে একজন।
এরিকের বয়স তিরিশের কাছাকাছি। পেশায় ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপার। তিনি বলেন, ‘মাইক্রোচিপটা লাগানো আছে আমার বৃদ্ধাঙ্গুলের মাথায়। আমি যদি আমার আঙ্গুল মুঠো না করি, তাহলে আপনি এটা দেখতেই পাবেন না। এটা সিরিঞ্জ দিয়ে এখানে ঢোকানো হয়েছে।
এটা আঙ্গুলে ঢোকাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় লাগে। এটা একদম আপনার চাবির ট্যাগের মতোই কাজ করে। যেভাবে আপনি আপনার গ্যারেজের দরোজা খোলেন, বা অফিসে ঢোকেন, অনেকটা সেরকম।’
এরিকের সঙ্গে সিলভিয়াও থাকেন একই বাড়িতে। সেও এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে আনন্দের সহিত। সিলভিয়া বলেন, ‘আমি দুমাস আগে আমার ইলেকট্রনিক চিপ পেয়েছি। এরিক আমাকে এখানে একটা পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেখানে আমি এই চিপটা পাই। আমি আমার জীবনটা একটু সহজ করতে চেয়েছি।
এই একই চিপ দিয়ে আমি কিন্তু আমার অফিসের দরজাও খুলতে পারি। এটাকে আপনি আপনার ট্রেনের টিকেট হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি কোনো জিমে যান, সেখানেও কিন্তু এটিকে ব্যবহার করতে পারেন।’
দেশটিতে মাইক্রোচিপ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। ছবি: সংগৃহীত
দেশটিতে মাইক্রোচিপ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। ছবি: সংগৃহীত
সিলভিয়া মনে করেন ভবিষ্যতে এই ইলেকট্রনিক চিপ সবাই ব্যবহার করবে। ‘আমার তো তাই মনে হয়। আমার মনে হয়, এটা এমন এক প্রযুক্তি, যা এখনো হয়তো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।
এটার ব্যবহার এখনো অনেকের কাছে বোকা বোকা লাগতে পারে, এটা দিয়ে খুব বেশি কিছু করা যায় না। তবে আমার মনে হয়, এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ’, যোগ করেন সিলিভিয়া।
সুইডেনে এই ইলেকট্রনিক চিপ জনপ্রিয়তার একমাত্র কারণ হচ্ছে এই দেশটি প্রযুক্তিবান্ধব। দেশটিতে লেন-দেনের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের ব্যবহার প্রায় উঠেই যাচ্ছে।
এর আরও একটি কারণ হচ্ছে, সুইডিশরা তাদের সরকার এবং কর্তৃপক্ষকে যথেষ্ট বিশ্বাস করে। যার ফলে তারা নির্দ্বিধায় নিজেদের গোপন তথ্য সরকারকে সরবরাহ করতে দ্বিধাগ্রস্ত নয়।
এ বিষয়ে এরিকের মত হচ্ছে, ‘সুইডিশরা বেশ বাস্তববাদী। আর চিপ কিন্তু বেশ কাজের। লোকজন তাই সহজেই একটা গ্রহণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে এটা ব্যবহৃত হতে পারে, এরকম ভয় তারা পাচ্ছে না।’
এর উল্টোচিত্রও আছে। ইতোমধ্যে এ মাইক্রোচিপ নিয়ে সুইডেনে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যে ভবিষ্যতে অন্যকাজে ব্যবহৃত হবে বিতর্কটা হচ্ছে এমন আশঙ্কাকে ভিত্তি করেই।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১১:৩৬এএম/১৭/৮/২০১৮ইং)
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি