• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

চলছে ‘আউশ’ ধান কাটার উৎসব


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১:২৩ PM / ১১০
চলছে ‘আউশ’ ধান কাটার উৎসব

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, মিরসরাই : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলছে আউশ ধান কাটার উৎসব। মৌসুমের শুরুতে বার বার বৈরী আবহাওয়ার পর সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে আউশের ফলন ভালো হওয়ায় অবশেষে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। কেউ কেউ ধান কাটার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে । কেউ বা ধান কেটে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে ক্ষয়ক্ষতির পর ও এবার গেল বছরের তুলনায় আবাদ ও ফলন ৪শত হেক্টর বেশি হয়েছে।

ঈদের আমেজ ছাপিয়ে কৃষকের এই ধান ঘরে তুলতে কৃষক কৃষাণি কারও যেন একটুও ফুসরত নেই। চারদিকে এখন ধান কেটে ঘরে তোলার প্রতিযোগিতা চলছে। আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা দেখলে ও কৃষক তাড়াতাড়ি আউশ ধান ঘরে তুলতে ব্যাকুল। দীর্ঘ দিনের এই পরিশ্রমের ফসল আউশ ধান সংরক্ষন করে ঘরে তুলতে কেউ কেউ অন্য জেলা থেকে শ্রমিক এনেছেন আবার কেউ কেউ এলাকার শ্রমিক নিয়ে এই ধান কাটার মহা উৎসবে ব্যস্ত।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় কৃষক, কৃষাণি ও ছেলে মেয়ে এবং অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে নিজ নিজ জমির আউশ ধান কর্তন করছে, কেউ আবার মেশিনের মাধ্যমে মাড়াই করে খড় থেকে ধান ছাড়াচ্ছেন, কোথাও কোথাও কৃষাণিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধান মাড়াই করছেন। কোথাও আবার দেখা যায় বাড়ির উঠানে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় অস্থায়ী উঠান করে ধান রোদে শুকাচ্ছেন। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় বাম্পার ফলন হলেও কর্তনের সময় আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভাল না থাকায় আউশ ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃৃষক কৃষাণিদের।

এধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক সাইফুল্লাহ জানান, এবার শুরু থেকে বারবার পাহাড়ী ঢল অনেক ক্ষতি করেছে। এরপর ও আমার ১০ গন্ডা জমির আউশ পঁচে গেচে। কিন্তু বাকী ২০ গন্ডা টিকে উঠায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। এখন আবার ধান তুলতে ও শুকাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। আকাশে কিছু সময় বৃষ্টি আবার কিছু সময় রোদ এবং বৃষ্টির পানি উঠানে লেগে থাকায় আমাদের ধান শুকাতে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, এবার পুরো উপজেলায় ৮৮৫০ হেক্টর জমিতে আউশের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ হেক্টর নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর ও গতবছরের তুলনায় ৪০০ হেক্টর বেশী জমিতে ফলন হয়েছে। এবারের ফলন ৩৫ হাজার ৪শত নব্বই মেট্রিকটন বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, সকল প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠতে আমরা সার, সেচ, পোকা মাকড় ও আগাছা দমনসহ সকল বিষয়ে উপযুক্ত সময়ে পদক্ষেপ গ্রহন করে চাষীদের পরামর্শ দিয়েছি। যে কারনে এ বছর বর্ষার মৌসুমী প্রতিকুলতা কাটিয়ে ফসল আউস ধানের ভাল ফলন হয়েছে এই উপজেলায়।

তিনি আরো বলেন, যেসব কৃষকের ধান পাকা এবং কাটার উপযোগি হয়েছে তারা সময় নষ্ট না করে দ্রুত ধান কেটে ফেলাই উত্তম। এতে ফলনের সঠিক পরিমান ঠিক থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ে ধান কাটতে না করলে বৃষ্টিপাতে ধান ঝরে পড়ে যাবে এবং যে পরিমানে ধান পাওয়ার কথা তার থেকে কম পাবে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১:২৫পিএম/৯/৯/২০১৭ইং)