এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনে দুইজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সঙ্গে একীভূত করার দাবিতে আমরণ অনশন চলছে বিভাগের শিক্ষার্থীদের।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন ইটিই বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আকাশ বিশ্বাস এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের নাফিসা। তাঁরা দুজনই বর্তমানে গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দুর্বলতা এবং তীব্র শীতের কারণেই এই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই দুই শিক্ষার্থী।
ইটিই তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিহাব শাহরিয়ার বলেন, উপাচার্যসহ শিক্ষকদের আশ্বাসে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে আমরা ১৬ জানুয়ারি অনশন কর্মসূচি স্থগিত করি। আলোচনায় আমরা ২৬ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবির যৌক্তিকতা বিচারে একটি তদন্ত কমিটি গঠনসহ তিনটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এখন আর আলোচনার কোনো সুযোগ নেই এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।
এদিকে, গত রবিবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান এবং অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হননি।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: শাহজাহান বলেন, আমরা তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থী) প্রতি আন্তরিক কিন্তু এটি এমন কোনো বিষয় নয় যেটি স্বল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব।
২০১৯ এর ১৮ অক্টোবর থেকে ইটিই বিভাগকে ইইই বিভগের সঙ্গে একীভূত করার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ইটিই এর চাকরির ক্ষেত্র ক্রমাগত কমে যাচ্ছে এবং পাঠ্যক্রম প্রায় একই হলেও ইইই গস্খাজুয়েটদের তুলনায় ইটিই গ্রাজুয়েটদের চাকরির সুযোগ কম।
প্রধান সম্পাদক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি